জনজীবন ও সমাজ বাস্তবতার নিরিখে "উদ্দীপকের সমাজচিত্র যেন 'লালসালু' উপন্যাসের সমাজেরই খণ্ডিত রূপ।”- মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।
'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত সমাজ অন্ধকারাচ্ছন্ন। অশিক্ষার দরুন সেখানে বাসা বেঁধে আছে বহু শতাব্দীর মোড়কে মোড়া কুসংস্কার। বাল্যবিবাহ, অসমবয়সি বিবাহ, বহুবিবাহ, ধর্মান্ধতা এ সমাজের মর্মমূলে বাসা বেঁধেছে।
উদ্দীপকের সমাজচিত্রেও বাল্যবিবাহ ও অসম বিবাহের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। অর্থবিত্তের মালিক শাহেদ অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তেরো বছরের কিশোরী মিতুকে বিয়ে করেছে। অথচ তার বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেছে আরো বহু আগে। উদ্দীপকের মতো কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজব্যবস্থা 'লালসালু' উপন্যাসেও ফুটে উঠেছে।
'লালসালু' উপন্যাসের ধর্মব্যবসায়ী মজিদ মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের অন্ধত্বকে পুঁজি করে ধর্মব্যাবসায় নামে। এ গ্রামের সমাজব্যবস্থায় বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, অসমবয়সের বিয়ে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সন্তান প্রত্যাশায় পিরের পানিপড়া নেওয়া, মাজারে মানত করা, অশিক্ষা, অন্ধবিশ্বাস এ সমাজে জেঁকে বসেছে। পক্ষান্তরে উদ্দীপকের সমাজব্যবস্থায় মহব্বতনগর গ্রামের বাল্যবিবাহ ও অসম-বয়সের বিবাহ এসব বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের সমাজচিত্র যেন 'লালসালু' উপন্যাসের খণ্ডিত রূপ।