আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ায় "মজিদের কূটকৌশলের কারণে উদ্দীপকের তালতলা গ্রামের মতো 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগরে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি" মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ ধূর্ত, ধর্মব্যবসায়ী। মহব্বতনগর গ্রামের অশিক্ষিত, অজ্ঞ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, ভীতু লোকজনকে মাজারকেন্দ্রিক খোদাভীতিতে আচ্ছন্ন করে প্রভাবশালী খালেক ব্যাপারীর সহায়তায় সে নিজের প্রভাব বিস্তার ও আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভকরে। এই অপকর্মের বিপরীতে দাঁড়িয়ে শিক্ষিত যুবক আক্কাস সেই গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে মজিদের চক্রান্তে তা ব্যর্থ হয়।
উদ্দীপকে তালতলা গ্রামের আশপাশে কোনো বিদ্যালয় না থাকায় মুশফিকের 'পড়াশোনা করতে যেতে হতো তিন কিলোমিটার দূরের স্কুলে। উচ্চশিক্ষা শেষ করে সে শিক্ষা বিভাগের অনুমোদন নিয়ে সজ্জন শহিদুল মাস্টারের সহযোগিতায় গ্রামে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। কিন্তু 'লালসালু' উপন্যাসের শিক্ষাব্রতী আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার মহৎ উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের শিক্ষিত ছেলে আক্কাস গ্রামে স্কুল না থাকায় শহরে গিয়ে পড়াশোনা করে গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ধর্মব্যবসায়ী মজিদ গ্রামের ধর্মান্ধ সাধারণ জনগণকে ভুল বুঝিয়ে আক্কাসের বিচার বসায়। তার প্ররোচনায় এলাকার মানুষ আক্কাসের বিরোধিতা করায় স্কুল প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, মজিদের কূটকৌশলই মহব্বতনগর গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা না-পাওয়ার জন্য দায়ী। তাই বলা যায়, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।