উভয় ক্ষেত্রেই মানুষ অভাব-অনটনে বসবাস করায় "উদ্দীপকের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষ 'লালসালু' উপন্যাসের শস্যহীন জনবহুল অঞ্চলের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়" উক্তিটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ এমন এক অঞ্চলে বেড়ে উঠেছে যেখানে অভান-অনটন, দুঃখ-দারিদ্র্য সব সময় লেগেই থাকে। তাদের ঘরে কিছুই নেই। ফলে খাদ্যের জন্য তাদের মধ্যে ভাগাভাগি, লুটালুটি, আবার স্থানবিশেষে খুনাখুনি পর্যন্ত হয়ে থাকে। সেখানে খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে। তাই তারা দেশ ত্যাগ করে। নানা পেশায় নিজেদের নিযুক্ত করে তারা জীবন বাঁচায়। কেউ জাহাজের খালাসি হয়, কারখানার শ্রমিক হয়, বাসাবাড়ির চাকর, কেউ মসজিদের ইমাম, কেউ মোয়াজ্জিন হয়।
উদ্দীপকে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের মানুষদের নিত্য অভাবঅনটনে বসবাস করার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নদীর অপ্রতিরোধ্য ভাঙন তাদেরকে আরও বেশি অসহায়, নিঃস্ব করে ফেলে। ফলে শস্যহীন এ মানুষগুলো ক্ষুধা-তৃষ্ণা, রোগ-শোক, শিশুর আর্তচিৎকার সব মিলিয়ে আনন্দহীন এক মানবেতর জীবন অতিবাহিত করে। অন্যদিকে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের অঞ্চলটিও শস্যহীন জনবহুল এক অঞ্চল। তাদের কোনো শস্য নেই, যা আছে তা যৎসামান্য। ফলে তাদের মধ্যে অভাব-অনটন লেগেই থাকে। আর এজন্য অন্য এলাকায় তাদের বেরিয়ে পড়ার ব্যাকুলতা লক্ষ করা যায়। ফলে তাদের দুর্দশাগ্রস্ত জীবন যেন উদ্দীপকের দুর্দশাগ্রস্ত জীবনের সঙ্গে মিলে যায়।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদের জন্মস্থানকে শস্যহীন জনবহুল এক মরার দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সেখানে শস্যের চেয়ে টুপির সংখ্যা বেশি। পর্যাপ্ত শস্য না থাকায় তারা খেয়ে না-খেয়ে জীবন কাটায়। তাদের এমন দুর্দশাগ্রস্ত জীবনই উদ্দীপকের বর্ণনায় ফুটে উঠেছে। উভয় ক্ষেত্রেই মানুষগুলোকে অভাবগ্রস্ত ও মানবেতর জীবনযাপন করতে দেখা যায়। এদিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।