• স্বার্থান্ধ মানুষের মুখোশ উন্মোচনই 'লালসালু' উপন্যাসের মূল উদ্দেশ্য"-উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাস অবলম্বনে আমার বক্তব্য পেশ করা হলো।
• স্বার্থপর ব্যক্তিরা নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির জন্য যেকোনো হীন কাজ করতে প্রস্তুত। ধর্ম, রাজনীতি যেকোনো উপায় অবলম্বন করে সরস রসনার মধ্য দিয়ে তারা রূপান্তরিত হয় কর্তাব্যক্তিতে। এদের দ্বারা দেশ ও জাতির ক্ষতি ছাড়া লাভ হয় না কখনো।
• উদ্দীপকে স্বার্থান্ধ ভন্ডদের বৈশিষ্ট্য উন্মোচন করা হয়েছে। দেশে দেশে, কালে কালে এদের অবস্থান অনড়। সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করে স্বার্থসিদ্ধির মৌলিক যোগসূত্রই তাদের বৈশিষ্ট্যের প্রধান পরিচায়ক। 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের প্রতারণার বিষয়টি উদ্দীপকের স্বার্থান্ধদের প্রতিরূপ। গারো পাহাড়ে অভুক্ত অর্ধাহারে কাটানো মজিদ মহব্বতনগর গ্রামবাসীর সারল্যকে পুঁজি করে রাতারাতি কেন্দ্রীয় শক্তিতে পরিণত হয়। তার ঘর-বাড়ি, জোত-জমি, গরু-গোয়াল, স্ত্রী সবই শঠতার ফল। গ্রামের মোড়ল খালেক ব্যাপারী পর্যন্ত তার কথা ছাড়া সিদ্ধান্ত দেয় না।
• উদ্দীপকে যে স্বার্থপর ভণ্ডদের কথা বলা হয়েছে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। উদ্দীপকের লেখক রমেশ র্যামন, রাব্বির মতো ব্যক্তিদের উদাহরণে যুগে যুগে, দেশে দেশে প্রতারক চক্রের প্রতারণার জাল উন্মুক্ত করেছেন। "লালসালু' উপন্যাসের লেখকেও উদ্দেশ্য যুগ যুগ ধরে শিকড়গাড়া মজিদের মতো প্রতারকচক্রের মুখোশ উন্মোচন করা। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য উক্তিটি যৌক্তিক।