• "প্রসঙ্গ ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের তাহেরা এবং উপন্যাসের জমিলা প্রতিবাদী চরিত্র"- উক্তিটি যথার্থ।
• পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা বরাবরই অবহেলার শিকার হয়। সমাজ তাদের বাধ্য করে পুরুষের বশ্যতা স্বীকার করে নিতে। তবে অনেক নারী আছে যারা অধিকারসচেতন। নিজেদের অধিকার রক্ষায় তারা প্রতিবাদী হয়ে ওঠে।
• 'লালসালু' উপন্যাসে লেখক ধর্মব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মজিদ ধর্মের কথা বলে, ভয় দেখিয়ে মহব্বতনগর গ্রামবাসীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখে। কিন্তু দেখা যায়, তার দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা তার অবাধ্য। ধর্মীয় কুসংস্কারের কোনো বেড়াজাল দ্বারাই জমিলার কৈশোর চঞ্চলতাকে মজিদ থামাতে পারে না। জমিলার এই মজিদের বিরুদ্ধাচারণ যেন একটা বিদ্রোহ। যা ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতিনিধি। উদ্দীপকের তাহেরার মধেও এরূপ প্রতিবাদ দেখা যায়।
• উদ্দীপকের তাহেরার সঙ্গে তার পিতার বয়সি বহিপীরের বিয়ে সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না। ফলে সে পালিয়ে যায়। তখন বহিপীর তার পিছু নিয়ে ধর্মের কথা বলে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে। পরিশেষে জয় হয় তাহেরার। আর ধর্মের মুখোশধারী বহিপীরের পরাজয় হয়। অনুরূপভাবে আলোচ্য উপন্যাসে জমিলার কাছে মজিদেরও পরাজয় হয়। কারণ জমিলা শেষপর্যন্ত মজিদের বশ্যতা স্বীকার করে না। এভাবেই জমিলা ও তাহেরা প্রতিবাদী চরিত্র হয়ে ওঠে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।