• উদ্দীপকে উল্লিখিত পুরুষতান্ত্রিকতার প্রতিনিধি হিসেবে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
• পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের কোনো ইচ্ছা-অনিচ্ছার মূল্য না দিয়ে। পুরুষরা তাদের স্বেচ্ছাচারিতা বজায় রাখে। সেখানে নারীরা অনেক ক্ষেত্রেই অসহায় থাকে। তারা কোনো প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে পারে না। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে মজিদের মতো স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিরা।
• উদ্দীপকে রমিছার জীবনের করুণ কাহিনি তুলে ধরতে গিয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বিদ্যমান পুরুষদের একগুঁয়েমিতা ও তাদের কাছে অসহায় নারীদের কথা বলা হয়েছে। 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদ পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেছে। তার ব্যক্তিত্বের কাছে তার স্ত্রী রহিমা অসহায় হয়ে পড়েছে। এদিক থেকে উদ্দীপকের সাথে মজিদ চরিত্রে সাদৃশ্য বিদ্যমান। কিন্তু 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদের একচ্ছত্র আধিপত্য, গ্রামের কর্তাব্যক্তি হয়ে ওঠা, মাজার ব্যাবসা, জমিলাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার বিষয়গুলো উদ্দীপকে নেই, যা তার চরিত্রের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যকে তুলে ধরে। উদ্দীপকের গ্রামের মানুষ যে অশিক্ষা-কুশিক্ষা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে সেই নিয়ন্ত্রক হচ্ছে মজিদ। তাই উদ্দীপকের সঙ্গে মজিদ চরিত্রের সাদৃশ্য বৈসাদৃশ্য উভয়ই পরিলক্ষিত হয়।
• উদ্দীপকে যে মানুষদের কথা বলা হয়েছে তারা মূলত ভুক্তভোগী। কিন্তু মজিদ হচ্ছে শোষক শ্রেণির চরিত্র। মজিদের মতো প্রতিনিধি চরিত্ররা অশিক্ষা ও কুসংস্কার দ্বারা উদ্দীপকে উল্লিখিত মানুষদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাই ভাবগত দিক থেকে মজিদ চরিত্রের সঙ্গে কিছু সাদৃশ্য থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উদ্দীপক ও মজিদ চরিত্রে বিপরীত বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।