“অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার কাটিয়ে সুস্থ জীবনাকাঙ্ক্ষাই 'লালসালু' উপন্যাসের মূল উপজীব্য।”- উদ্দীপক ও উপন্যাস অবলম্বনে বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করা হলো।
• স্বার্থান্ধ মানুষ এক প্রকার সামাজিক দুষ্ট ক্ষত। এই ক্ষতকে নির্মূল করতে প্রয়োজন শিক্ষাদীক্ষা তথা জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে সচেতন সমাজে প্রতিষ্ঠা। ধর্মভীতি নয় বরং সঠিক ধর্মীয় শিক্ষাই সমাজ থেকে স্বার্থপর ভণ্ডদের উৎখাত করতে পারে।
• উদ্দীপকের শামিমের মধ্যে সচেতন মানুষের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। স্ত্রীর সাথে তার পারিবারিক কলহ লেগে থাকলেও সে এ বিষয়ে পিরের মাজার থেকে পানিপড়া নেওয়ার পক্ষপাতী নয়। বরং ঘরের গোপন কথা সে গোপনই রাখতে চায়। 'লালসালু' উপন্যাসের তাহের-কাদেরের বাপ সাংসারিক কলহের মধ্যে থাকলেও মজিদ যে আধ্যাত্মিক বলে তার পারিবারিক কলহের বিষয় জানতে পেরেছে, তা সে বিশ্বাস করে না। সে ঘরের ব্যাপার বাইরে প্রকাশ করতে চায় না। মজিদের কথায় সে স্পষ্ট উত্তর দেয়।
• উদ্দীপকের শামিম কলহে লিপ্ত হলেও যুক্তিবাদী মানসিকতার অধিকারী। তাবিজ-কবচ, পানিপড়ায় তার বিশ্বাস নেই। 'লালসালু' উপন্যাসের তাহের-কাদেরের বাপও এককালে বুদ্ধিমান লোক ছিল। মজিদের আধ্যাত্মিক শক্তির বলে তাদের সাংসারিক কলহের কথা জানতে পেরেছে বলে সে বিশ্বাস করে না। তাই বলা যায় যে, অন্ধবিশ্বাস আর কুসংস্কার কাটিয়ে সুস্থ জীবনাকাঙ্ক্ষাই 'লালসালু' উপন্যাসের মূল উপজীব্য।