• উদ্দীপকের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগরের জীবন কাঠামোর তুলনায় যে সাদৃশ্য পাওয়া যায়, তা হচ্ছে স্বার্থান্বেষী বকধার্মিকদের হাতে সাধারণ মানুষদের নিয়ন্ত্রিত হওয়া।
• ভণ্ড, অসৎ ও প্রতারক ধর্মব্যবসায়ীরা মানুষের অন্ধবিশ্বাস ও সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রভাব বিস্তার করে। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তারা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে সাধারণ মানুষদের ঠকিয়ে থাকে।
• উদ্দীপকে বলা হয়েছে ধর্ম মানুষকে বিকশিত করলেও ধর্মতন্ত্র মানুষকে বন্দি ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন করে ফেলে। সুবিধাবাদী গোষ্ঠী মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে ধর্মকে শাসনের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে এবং ধর্মের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। 'লালসালু' উপন্যাসে ধর্মতন্ত্রের এই ব্যবহার লক্ষ করা যায়। স্বার্থান্বেষী ভণ্ড মজিদ উড়ে এসে জুড়ে বসে মহব্বতনগর গ্রামে। তারপর অশিক্ষিত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন এই গ্রামের মানুষদের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে তাদের শোষণ করতে থাকে। যুগ যুগ ধরে শেকড়গাড়া কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ভীতির সঙ্গে বাস করতে থাকা গ্রামবাসীর মধ্যে ভন্ড ব্যবসায়ী মজিদ প্রতারণার জাল বিস্তার করে। একটি মাজারকে কেন্দ্র করে ধর্মব্যাবসা খুলে সে নিজের শাসন ও শোষণ প্রতিষ্ঠা করে। উদ্দীপকে যে ধর্মতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে সেই ধর্মতন্ত্রকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে মজিদ। উদ্দীপকের সঙ্গে মহব্বতনগরের জীবন কাঠামোর তুলনায় তাই বলা যায় দুটিই একসূত্রে গাঁথা।