"উদ্দীপকের রফিক সাহেব ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের পরিণতি এক হলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।"- মন্তব্যটির সত্যাসত্য নির্ণয় কর।
উত্তর: "উদ্দীপকের রফিক সাহেব ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের পরিণতি এক হলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।"- মন্তব্যটি যথার্থ। মানুষ বরাবরই স্বার্থান্বেষী জীব। স্বার্থের জন্য তারা অনেক সময় গর্হিত কাজে শামিল হয়। এই স্বার্থ বিভিন্ন ধরনের হয়। কখনো তা ক্ষুদ্র স্বার্থ আবার কখনো তা বৃহৎ স্বার্থ। যে স্বার্থের কারণেই হোক না কেন, গর্হিত কাজে শামিল হওয়া সমীচীন নয়। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজ এমনই এক স্বার্থপরতার নির্মম বলি হওয়া চরিত্র। তিনি ছিলেন বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব। তাঁর এই নবাবি তাঁর আপন খালা ঘসেটি বেগম সহ্য করতে পারেননি। হিংসার বশবর্তী হয়ে তিনি রাজ্যের অন্যদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সিরাজের বিরুদ্ধে কূটকৌশল রচনা করেন। তারা রাজ্য লাভের নেশায় এত বেশি বুঁদ হয়েছিলেন যে নিজেদের রাজ্যকে ইংরেজদের হাতে তুলে দিতেও পিছপা হননি। ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তি দ্বারা সিরাজের নিহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলার আকাশ থেকে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়। উদ্দীপকের রফিক সাহেবের পরিণতিও, সিরাজের মতো। তিনিও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার। তবে রফিক সাহেবের এমন পরিণতির' পর শুধু তার নিজস্ব সম্পদ পরহস্তগত হয়, কিন্তু সিরাজের এমন পরিণতির ফলে পুরো দেশ অন্যের অধীনে চলে যায়। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেশপ্রেমিক নবাব সিরাজউদ্দৌলা দেশের স্বার্থে সবাইকে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ইংরেজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য শপথ করান। তা সত্ত্বেও প্রধান রাজ-অমাত্য মিরজাফর বিশ্বাসঘাতকতা করেন। ফলে নবাব পলাশির যুদ্ধে পরাজিত, বন্দি এবং পরে নির্মমভাবে নিহত হন। নবাব সিরাজের এমন পরিণতির পেছনে ব্যক্তিস্বার্থের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বার্থও ছিল। তবে রফিক সাহেবের করুণ পরিণতির জন্য শুধু ব্যক্তিস্বার্থ ছিল প্রধান কারণ। এই বিবেচনায় তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রফিক সাহেব ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের পরিণতি এক হলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
HSC Bangla 1st Paper নাটক : সিরাজউদ্দৌলা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 1st Paper · নাটক : সিরাজউদ্দৌলা · সৃজনশীল
"উদ্দীপকের রফিক সাহেব ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের পরিণতি এক হলে…
উদ্দীপক
Comilla · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর