"সেনাপতি ও অমাত্যরা উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দির মতো অনুগত্য ও বিশ্বস্ততার পরিচয় দিলে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের পরিণতি অন্যরকম হতে পারত।"- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর: পলাশি যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতনের কারণ বিবেচনায় "সেনাপতি ও অমাত্যরা উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দির মতো বিশ্বস্ততা ও নৈতিকতার পরিচয় দিলে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজের পরিণতি অন্যরকম হতে পারত"- মন্তব্যটি যথার্থ। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার মর্মন্তুদ কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। নবাবের নিজের লোকদের ষড়যন্ত্রই তাঁর পরাজয়ের মূল কারণ, যেখানে বাংলার মসনদের লোভে তাঁর পরিবারের লোকজনই এই পরাজয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখে। উদ্দীপকে ইব্রাহিম কার্দি নামের এক মহান বীরের কথা বলা হয়েছে। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে মুসলিম হয়েও তিনি মারাঠা বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করেন। এমতাবস্থায় তার স্ত্রী জোহরা তাকে মুসলিম বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করার কথা বললে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। কেননা, বিপদের দিনে যারা তাকে আশ্রয় দিয়েছে, সম্মান দিয়েছে তাদের সঙ্গে তিনি কোনোমতেই বিশ্বাসঘাতকতা করতে রাজি ছিলেন না। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সেনাপতি ও অমাত্যরা যদি ইব্রাহিম কার্দির মতো এমন সৎ থাকতেন তাহলে নবাবের করুণ পরিণতি হতো না। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নাট্যকার বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পলাশির যুদ্ধে পরাজয় এবং এর পেছনের প্রাসাদ ষড়যন্ত্রকে তুলে ধরেছেন। সেখানে সিরাজউদ্দৌলা নিজের প্রধান সেনাপতি মিরজাফর ও সভাসদদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হন। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্যও অস্তমিত হয়। এক্ষেত্রে প্রধান সেনাপতি মিরজাফরসহ সভাসদরা দেশপ্রেমিক হলে এবং বাংলার স্বাধীনতার জন্য বিশ্বস্ততা ও নৈতিকতার পরিচয় দিয়ে নবাবের পক্ষে অবস্থান নিলে এই যুদ্ধে নবাবকে পরাজিত হতে হতো না। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি। যথাযথ অর্থবহ।
HSC Bangla 1st Paper নাটক : সিরাজউদ্দৌলা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 1st Paper · নাটক : সিরাজউদ্দৌলা · সৃজনশীল
"সেনাপতি ও অমাত্যরা উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দির মতো অনুগত্য ও বিশ্বস…
উদ্দীপক
Dinajpur · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর