"উদ্দীপকে নারীর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও মর্যাদা প্রদর্শিত হলেও 'লালসালু' উপন্যাসে তা অনুপস্থিত।”- মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই কর।
উত্তর: "উদ্দীপকে নারীর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও মর্যাদা প্রদর্শিত হলেও 'লালসালু' উপন্যাসে তা অনুপস্থিত।" মন্তব্যটি যথার্থ। আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর মর্যাদা প্রায় নেই। কিন্তু অনেক ব্যক্তিত্ববান মানুষ নারীর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করেন, মর্যাদা দেন। উদ্দীপকের প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তি কমল চৌধুরী নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একজন ব্যক্তি। তিনি নারী কেলেঙ্কারি বিষয়ক এক গ্রাম্য সালিশে নারীর প্রতি সবাইকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে বলেন। মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া কথা বলে নারীর মর্যাদা হানি করা যে অন্যায়, অপরাধ সে কথা বলেন। সংসারের প্রয়োজনে নারীর পরিশ্রম, ত্যাগ, পরিবার গঠনে নারীর ভূমিকার কথা বলে কমল চৌধুরী তাদেরকে যথাযথ মূল্য ও মর্যাদা দেওয়ার মানবিক কর্তব্যকে স্মরণ করিয়ে দেন। উদ্দীপকে নারীর প্রতি প্রদর্শিত এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও মর্যাদা 'লালসালু' উপন্যাসে অনুপস্থিত। এ উপন্যাসে মজিদের মধ্য দিয়ে যে ধর্মতন্ত্রের বিস্তার ঘটেছে তার পেছনে পুরুষতন্ত্রও সক্রিয়। রহিমার সন্তান না হওয়ায় মজিদ দ্বিতীয় বিয়ে করে। রহিমা ও জমিলা দুই স্ত্রীকেই সে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে। প্রাণোচ্ছল জমিলাকে সে কঠোর শাস্তি দিয়েছে। খালেক ব্যাপারীর স্ত্রী আমেনা বিবিকে বিনা দোষে কলঙ্কের দাগ দিয়ে তালাক দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। খালেক ব্যাপারীও এত দিন সংসার করার পর ভালো-মন্দ বিচার না করে তালাক দিয়েছে। তাহের-কাদেরের মায়ের সম্ভ্রম গ্রাম্য সালিশে ধুলায় লুটিয়েছে। উদ্দীপকে যেমন নারীর প্রতি সম্মান প্রকাশ পেয়েছে, সেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও মর্যাদা 'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায় না। এ উপন্যাসে নারীরা ধর্মব্যবসায় ও পুরুষতন্ত্রের চাপে নিষ্পেষিত হয়েছে। স্বাভাবিক প্রাণধর্মের প্রকাশ তারা ঘটাতে পারেনি। তারা কারও কাছে যথাযথ মর্যাদা ও মূল্যায়ন পায়নি। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
HSC Bangla 1st Paper উপন্যাস : লালসালু CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 1st Paper · উপন্যাস : লালসালু · সৃজনশীল
"উদ্দীপকে নারীর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও মর্যাদা প্রদর্শিত হলেও …
উদ্দীপক
Dhaka · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর