"ধর্মান্ধতাকে কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালীরা স্বার্থ হাসিল করে"- এ উক্তির আলোকে উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের ভাবগত সাদৃশ্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: "ধর্মান্ধতাকে কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালীরা স্বার্থ হাসিল করে"- এ উক্তির আলোকে উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের ভাবগত সাদৃশ্য বিশ্লেষণ করা যায়। কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, অলৌকিতায় বিশ্বাস অশিক্ষিত গ্রাম্য সমাজে বিদ্যমান। শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকলে মানুষ অসচেতন অবস্থায়ই থাকে। তারা সরল বিশ্বাসে মানুষকে বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়। তাই সহজ-সরল মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে একশ্রেণির ধর্মব্যবসায়ী তাদের স্বার্থ হাসিল করে। 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ একজন ধর্মব্যবসায়ী ও প্রতারক। সে মহব্বতনগর গ্রামে এসে একটি পুরানো কবরকে তথাকথিত মোদাচ্ছের পিরের মাজার আখ্যা দিয়ে সেখানকার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করে। সে এখানে প্রতারণার সুবিধার্থে ওই গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে নেয়। অত্যন্ত কৌশলে তাদেরকেও নিজের অধীন করে নেয়। ফলে খালেক ব্যাপারীকেও সে প্ররোচিত করে তার স্ত্রীকে তালাক দিতে। গ্রামের সালিশ-বিচারেও মজিদের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ কথা বলতে পারে না। এর মূল কারণ গ্রামবাসীর অজ্ঞতা ও কুসংস্কারে বিশ্বাস। তারা মজিদকে কিছু বলতে ভয় পায়। কারণ মজিদ তাদের মনে ধর্মের ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে। উদ্দীপকের আলোচিত ধর্মব্যবসায়ীরাও অনুরূপভাবে সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে। সেই সঙ্গে তাদের শোষণ করার জন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে জোট বাঁধে। 'লালসালু' উপন্যাসে মহব্বতনগর গ্রামবাসীর ধর্মান্ধতার-সুযোগেই মজিদ নারীদের প্রতি অমানবিক আচরণ, অসম বিয়ে এবং মনগড়া উদ্ভট চিকিৎসা পদ্ধতি চালু করেছে। ওই গ্রামের শিক্ষিত যুবক আক্কাস তা বুঝতে পেরে গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে। মজিদের কূটকৌশলের কাছে সে টিকতে পারেনি। ধর্মান্ধতার কারণেই উদ্দীপকের ধর্মব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে শোষণের সুযোগ পেয়েছে। মানুষ শিক্ষিত ও সচেতন হলে তারা তা করতে সাহস পেত না। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
HSC Bangla 1st Paper উপন্যাস : লালসালু CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 1st Paper · উপন্যাস : লালসালু · সৃজনশীল
"ধর্মান্ধতাকে কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালীরা স্বার্থ হাসিল করে"- এ উক্তির…
উদ্দীপক
Dinajpur · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর