সমাজের প্রচলিত প্রথা ও কুসংস্কারের কারণেই উদ্দীপক ও আলোচ্য উপন্যাসের সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। লালসালু' একটি সামাজিক সমস্যামূলক উপন্যাস। যুগ যুগ ধরে বাঙালির গ্রামীণ জীবনে লালন করা ধর্মীয় কুসংস্কার ও প্রচলিত প্রথা উপন্যাসটির মূল ভিত্তি। এখানে ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদ সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে সবার বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে। সে ধর্মের অজুহাতে একটি সাধারণ কবরকে পুণ্যবান ব্যক্তির মাজার বলে প্রতিষ্ঠিত করে। মাজারে যে দান করে তা মজিদ নিজের প্রয়োজনে ব্যয় করে। ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে গ্রামের মানুষদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করতে আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠায়ও সে বাধা দেয়।
উদ্দীপকের বর্ণনাতেও এসেছে প্রচলিত প্রথা ও কুসংস্কারের দিকটি। মিথ্যা ধর্মবোধ ও অন্ধসংস্কারের ধারক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে মন্দিরের পুরোহিত রঘুপতিকে। এখানে প্রচলিত বলি প্রথার ধারক রঘুপতির নির্মমতার কথা বলা হয়েছে। সমাজের প্রচলিত ধর্মীয় বলি প্রথার শিকার হতে হয়েছে অপর্ণার ছোট ছাগ-শিশুকে।
আলোচ্য উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন। সাধারণ মানুষের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও গোঁড়ামিকে পুঁজি করে মজিদ নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য মাজার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়। গ্রামের অশিক্ষিত ও ধর্মভীরু মানুষের সাথে প্রতারণা করে সে তার স্বার্থসিদ্ধি করে। নিজেকে সবার বিশ্বস্ত করার জন্য সে নিঃসন্তান আমেনা বিবির পেটে বেড়ি আছে বলে এক ধরনের নাটকের আশ্রয় নেয়। গ্রামের মানুষ যদি প্রচলিত প্রথা ও কুসংস্কারে বিশ্বাসী না হতো তাহলে মজিদ তাদের গ্রামের পরিচিত কবরকে মাজার বলে চালাতে পারত না। আবার, নিরপরাধ আমেনা বিবিকেও খালেক ব্যাপারী তালাক দিত না। সমাজে প্রচলিত এসব কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের কারণেই প্রতারকরা সুযোগ পায় এবং সাধারণ মানুষদের কষ্ট পেতে হয়। আলোচ্য উদ্দীপকের সমাজব্যবস্থাতেও এমনই প্রচলিত প্রথা ও কুসংস্কার ফুটে উঠেছে। ফলে আত্মবিসর্জন দিতে হয়েছে জয়সিংহকে এবং প্রাণ দিতে হয়েছে অপর্ণার স্থাগ-শিশুকে। সুতরাং, উদ্দীপক ও আলোচ্য উপন্যাসের আলোকে এ কথা সত্য যে, প্রচলিত প্রথা ও কুসংস্কার কখনো ব্যক্তি ও সমাজের জন্য সহায়ক নয়, বরং অন্তরায়।