সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ 'লালসালু' উপন্যাসে গ্রামবাংলার বাস্তব জীবনের চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একটি অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার বলে মহব্বতনগর গ্রামে এসে নিজের প্রভাব ও প্রতিপত্তি বিস্তার করে। সে গ্রামের মানুষের ধর্মান্ধতার সুযোগে মাজারকে কেন্দ্র করে সবার ওপর কর্তৃত্ব স্থাপন করতে সক্ষম হয়। এমনকি, গ্রামের মাতব্বর খালেক ব্যাপারীর সাথে বিচার-সালিশেও সে অংশ নেয়। আবার, সে সন্তান লাভের আশায় অল্পবয়সি জমিলাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। মহব্বতনগর গ্রামে মজিদের অনেক প্রভাব থাকলেও জমিলা তাকে কোনো গুরুত্ব দেয় না। এ কারণে মজিদ নানারকম অত্যাচার করে জমিলার ওপর।
উদ্দীপকের বৃদ্ধ বহিপীর অল্পবয়সি তাহেরাকে বিয়ে করে। কিন্তু বাবা ও সৎমা পীরকে খুশি করার আশায় তাহেরাকে তার সাথে বিয়ে দিলেও সে এই বিয়ে মেনে নেয় না। এ কারণে বহিপীর যখন তাহেরাকে সাথে করে নিয়ে যেতে চায়, তখন সে এর বিরোধিতা করে। এখানে মূলত তাহেরার স্বাধীনচেতা মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়, যা আলোচ্য উপন্যাসের জমিলার প্রতিবাদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ চরিত্রের ভণ্ডামির দিকটি লক্ষ করা যায়। সে শস্যহীন অঞ্চল থেকে মহব্বতনগর গ্রামে আসে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়। এখানে এসে গ্রামের মানুষের সরলতার সুযোগে মজিদ নিজের মাজারকেন্দ্রিক ব্যবসায় প্রসিদ্ধি লাভ করে। সন্তানলাভের আশায় সে অল্পবয়সি জমিলাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। কিন্তু জমিলা স্বামী হিসেবে মজিদকে সম্মান করে না বা তার কোনো কথা মেনে চলে না। উদ্দীপকের বৃদ্ধ বহিপীরও অল্পবয়সি তাহেরাকে বিয়ে করে। কিন্তু তাহেরা এ বিয়ে মেনে না নেওয়ায় সে পীরের সাথে যেতে চায় না। আলোচ্য উপন্যাস ও উদ্দীপক উভয়স্থানে জমিলা ও তাহেরার প্রতিবাদী চেতনার মিল পাওয়া যায়। তবে, গ্রামীণ সমাজের নানা কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিক উপন্যাসে আলোচিত হয়েছে, যা উদ্দীপকের স্বল্লায়তনে চিত্রায়িত হয়নি। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকটিতে 'লালসালু' উপন্যাসের একটি খন্ডাংশের ইঙ্গিত রয়েছে"- মন্তব্যটি যথার্থ।