স্বার্থরক্ষায় উদ্দীপকের হোসেন মিয়া এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একই রকম প্রতারণা ও অবৈধপন্থা অবলম্বন করেছে।
উপন্যাসের মজিদ জীবিকার তাগিদে মহব্বতনগর গ্রামে এসে প্রবেশ করে। শস্যহীন অঞ্চল থেকে এখানে এসে সে বুঝতে পারে, এই গ্রামের লোকেরা অবস্থাপন্ন কৃষক হলেও তারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তাই সহজেই একটি কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার বলে প্রচার করে সে। গ্রামের লোকের মনে আল্লাহর কালাম শুনিয়ে ভয়ের সৃষ্টি করে। মাজারে মানত করে মানুষ যে দান করে সেই অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে মজিদ নিজের সম্পদ বৃদ্ধি করে।
উদ্দীপকের হোসেন মিয়া চাল-চুলোহীন অবস্থায় কেতুপুর গ্রামের জহর মাঝির বাড়িতে আশ্রয় খুঁজে নেন। দারিদ্র্যের মাঝে বড় হওয়ায় নিজের স্বার্থের ব্যাপারে সচেতন হোসেন মিয়া সকলের সাথে হাসিমুখে কথা বলেন। তাদের বিপদে-আপদে সাহায্য করে তিনি গ্রামের মানুষের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন। সকলকে তিনি মিয়া বলে সম্বোধন করে তাদের আপন করে নেন। কিন্তু সবার আড়ালে অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে গড়ে তোলেন বিশাল প্রতিপত্তি।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ ও উদ্দীপকের হোসেন মিয়া দুজনেই নিজেদের স্বার্থরক্ষায় গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে ঠকিয়েছেন। মজিদ আল্লাহর কালামকে পুঁজি করে মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করে। মাজারকে কেন্দ্র করে টাকা উপার্জন করে সে। অন্যদিকে, হোসেন মিয়া সকলকে মিয়া বলে সম্বোধন করেন, বিপদে সাহায্য করেন, হাসিমুখে কথা বলেন। কিন্তু এসব কিছুর আড়ালে তিনি অবৈধভাবে বিশাল প্রতিপত্তি গড়ে তোলেন। লোকচক্ষুর আড়ালে নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তারের দিক বিবেচনায় বলা যায়, নিজেদের স্বার্থরক্ষায় উদ্দীপকের হোসেন মিয়া এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একই পথের পথিক।