'লালসালু' উপন্যাসে ভন্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদ চরিত্রের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করা হয়েছে।
আলোচ্য উপন্যাসের মজিদ একজন ভন্ড ও প্রতারক। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মহব্বতনগর গ্রামে আসে সে। এখানে এসে একটি অজ্ঞাত কবরকে মাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে নিজের প্রভাব বিস্তার করে। সে এই গ্রামের একটি মেয়েকে বিয়ে করে। কিন্তু সন্তান না হওয়ায় পরবর্তীকালে অল্পবয়সি জমিলাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। চঞ্চলা জমিলা মজিদের ধর্মীয় ভাবমূর্তির দিকটিকে গুরুত্ব দেয় না। তাই সে মজিদের কথার অবাধ্য হয়। এ কারণে মজিদ জমিলাকে বশে আনার জন্য নানারকম শাস্তি প্রদান করে; এমনি রাতের অন্ধকারে মাজারে বেঁধে রাখে।
উদ্দীপকের বজলু চৌকিদারও দুই বউ থাকার পরও অল্পবয়সি একটি মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে আনে। সে স্ত্রীকে অনেক শাসন করে এবং কারও সাথে কথা বলতে দেয় না। পাশের বাড়ির ছেলের সাথে কথা বলার অপরাধে শীতের রাতে স্ত্রীকে ঘরের বাইরে বেঁধে রাখে সে।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ ও উদ্দীপকের বজলু চৌকিদার দুজনই নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য স্ত্রীদের অত্যাচার করে। মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে এসে নিজেকে বিশ্বাসী ও শক্তিশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ধর্মকে অবলম্বন করে। সে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের অজ্ঞতার সুযোগে মাজারকেন্দ্রিক ব্যাবসা শুরু করে। গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বিচার-সালিশেও সে উপস্থিত থাকে। কিন্তু সন্তান লাভের আশায় সে অল্পবয়সি জমিলাকে বিয়ে করলে নতুন স্ত্রী তার অবাধ্য হয়। ফলে সে স্ত্রীকে নানারকম শাস্তি প্রদান করে। আবার, উদ্দীপকের বজলু চৌকিদার তৃতীয়বার বিয়ে করার পর অল্পবয়সি স্ত্রীকে অবিশ্বাস ও সন্দেহের কারণে কারও সামনে আসতে দেয় না। আলোচ্য উপন্যাস ও উদ্দীপকে স্ত্রীকে বশে রাখার জন্য অত্যাচারের দিকটিতে মজিদ ও বজলুর মিল রয়েছে। কিন্তু বজলুকে মজিদের মতো ভন্ড, প্রতারক ও অর্থলোভী চরিত্রে উপস্থাপন করা হয়নি। মূলত 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ চরিত্রের কূটকৌশলের নানাদিক উপস্থাপিত হয়েছে।