শেয়ারFacebookWhatsApp

'গ্রামের মানুষ যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ'- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: মহব্বতনগরের লোকেরা মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমার মতোই দৈহিক শক্তিতে বলীয়ান, কিন্তু সহজ-সরল এবং মানসিকভাবে দুর্বল ও ভীতু প্রকৃতির, যা প্রশ্নোক্ত বাক্যটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে। মহব্বতনগরের মানুষগুলো কাজ করে আনন্দ পায়। তাদের অন্তরজুড়ে। শুধু জমি আর ধান। সারা বছর খোদার কথা ভুলেই থাকে তারা। কেবল বর্ষণহীন খরার দিনে যখন জমিতে ফাটল ধরে তখন তারা খোদাকে স্মরণ করে। বিশাল শরীর নিয়ে তারা সব সময় কাজে মগ্ন থাকে। মোটাতাজা শরীর হলেও লোকগুলো রহিমার মতো অন্তরে নারীসুলভ ভয় লালন করে। রহিমার মতোই তারা মজিদকে ভয় পায় ও শ্রদ্ধা করে। এজন্যই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

HSC Bangla 1st Paper উপন্যাস : লালসালু CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

HSC · Bangla 1st Paper · উপন্যাস : লালসালু · সৃজনশীল

'গ্রামের মানুষ যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ'- ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপক

কাজীপুর গ্রাম থেকে শহর অনেকটা দূরে অবস্থিত। প্রকৃতি উদার হাতে এ অঞ্চলের মানুষকে শস্য ও সম্পদে সুখী রেখেছে। এ অঞ্চলের মানুষের দিন কাটে ফসলের খেতে, গৃহস্থালি কাজে, হাসি-উৎসবে ও প্রচলিত বিশ্বাসে। এ গ্রামের মাতব্বর ফরমান আলীর বাড়িতে এক পড়ন্ত বিকেলে মতলব মিয়া নামে অচেনা এক দরবেশের আগমন ঘটে। দুর্গম পথ পার হয়ে আসা মতলব মিয়ার চোখে-মুখে আশঙ্কা, উদ্বেগ ও স্বপ্নের বিচিত্র। আভাস। সবার সামনে সে নিজেকে পির হিসেবে পরিচয় দিয়ে নানারকম অলৌকিক কর্মকাণ্ডের গল্প বলতে শুরু করে।

Dhaka · 2018

উত্তর

'মরা মানুষ জিন্দা হয় ক্যামনে'- উক্তিটি মজিদের।

উত্তর

মহব্বতনগরের লোকেরা মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমার মতোই দৈহিক শক্তিতে বলীয়ান, কিন্তু সহজ-সরল এবং মানসিকভাবে দুর্বল ও ভীতু প্রকৃতির, যা প্রশ্নোক্ত বাক্যটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে। মহব্বতনগরের মানুষগুলো কাজ করে আনন্দ পায়। তাদের অন্তরজুড়ে। শুধু জমি আর ধান। সারা বছর খোদার কথা ভুলেই থাকে তারা। কেবল বর্ষণহীন খরার দিনে যখন জমিতে ফাটল ধরে তখন তারা খোদাকে স্মরণ করে। বিশাল শরীর নিয়ে তারা সব সময় কাজে মগ্ন থাকে। মোটাতাজা শরীর হলেও লোকগুলো রহিমার মতো অন্তরে নারীসুলভ ভয় লালন করে। রহিমার মতোই তারা মজিদকে ভয় পায় ও শ্রদ্ধা করে। এজন্যই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

উত্তর

উদ্দীপকের মতলব মিয়া ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ আত্মপরিচয়দানে ও আত্মপ্রকাশে এক ও অভিন্ন। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ শস্যহীন, রুক্ষ অঞ্চলের বাসিন্দা। খরার দেশ হওয়ায় জীবিকার তাগিদে সেই অঞ্চল থেকে মানুষ দলে দলে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। তেমনিভাবে মজিদও ভাগ্যের সন্ধানে মহব্বতনগর গ্রামে এসে প্রবেশ করে। এখানে এসে সে গ্রামের মাতব্বর খালেক ব্যাপারীর বাড়িতে গিয়ে নিজেকে মোদাচ্ছের পিরের খাদেম বলে পরিচয় দেয়। নানারকম অলৌকিক কথা বলে মজিদ গ্রামের সহজ-সরল মানুষের মনে তার প্রতি বিশ্বাস সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে বর্ণিত কাজীপুর একটি সমৃদ্ধ গ্রাম। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে এই গ্রামে এসে প্রবেশ করে মতলব মিয়া নামে এক দরবেশ। এখানে এসে সে মাতব্বর ফরমান আলীর বাড়িতে গিয়ে নিজেকে পির হিসেবে পরিচয় দেয়। নানারকম অলৌকিক কথা বলে সকলের মনে বিশ্বাস তৈরি করতে চায়। আলোচ্য উপন্যাসের মজিদের অজ্ঞাত মোদাচ্ছের পিরের খাদেম হয়ে সমৃদ্ধ একটি গ্রামে প্রবেশ ও উদ্দীপকের মতলব মিয়ার পির হিসেবে কাজীপুর গ্রামে প্রবেশ, দুটোই সমান নাটকীয়। তারা উভয়ই নিজেদের পরিচয় দিতে বিভিন্ন অলৌকিক কাহিনির উপস্থাপন করেছে, যা তাদের দুজনকে আত্মপরিচয় দানে ও আত্মপ্রকাশে অভিন্ন করে তুলেছে।

উত্তর

ফসলের সমৃদ্ধি, জীবনযাপন পদ্ধতি ও প্রচলিত বিশ্বাস ধারণের দিক থেকে "উদ্দীপকের গ্রামজীবন যেন 'লালসালু' উপন্যাসের গ্রামজীবনের খণ্ডিতরূপ”- মন্তব্যটি যথার্থ। 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত মহব্বতনগর গ্রাম শস্যে ও সম্পদে সমৃদ্ধ। তারা সবাই ফসলের মাঠে হাসি-আনন্দে মেতে থাকে। তবে এখানকার লোকজন ধর্মভীরু ও কুসংস্কারে বিশ্বাসী। তাই শস্যহীন গ্রাম থেকে মজিদ এ গ্রামে এসে পিরের অলৌকিক কাহিনি শোনালে তারা তা বিশ্বাস করে। মহব্বতনগর গ্রামে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় এসে মজিদ মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজের কর্তৃত্ব বিস্তার করে। এই গ্রামে এসে মজিদ বিয়ে করে সংসার শুরু করে। গ্রামের মাতব্বরও তার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিচার কাজ পরিচালনা করে। উদ্দীপকের কাজীপুর গ্রামকেও প্রকৃতি শস্য ও সম্পদে সমৃদ্ধ করে রেখেছে। এখানকার সবাই ফসলের মাঠে ও ঘরের কাজে হাসি-আনন্দে মেতে থাকে। সম্পদের প্রাচুর্য থাকলেও তারা কুসংস্কারে বিশ্বাসী। তাই, দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে কাজীপুর গ্রামে এসে মতলব মিয়া মাতব্বরের বাড়িতে নিজেকে পির দাবি করে এবং বিভিন্ন অলৌকিক কর্মকাণ্ডের কথা বলে। আলোচ্য উপন্যাসের মজিদ ও উদ্দীপকের মতলব মিয়া দুজনেই চোখে- মুখে শঙ্কা ও স্বপ্ন নিয়ে নিজ গ্রাম ছেড়ে অন্য গ্রামে এসে আশ্রয় নেয়। তারা নানারকম অলৌকিক কাহিনি বলে গ্রামের মানুষের মনে বিশ্বস্ত হয়ে থাকতে চায়। কিন্তু উপন্যাসের মজিদ যেমন তার চাতুর্যের দ্বারা গ্রামবাসীর আস্থাভাজন হয়ে ওঠে, উদ্দীপকে সে বিষয়ের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না। মজিদ ঘর-বাড়ি, জমি-জমা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করে। মহব্বতনগর গ্রামে এসে সে দুই বিয়ে করে সংসারীও হয়। এমনকি, মাতব্বরের সাথে সালিশের বিচার কাজেও অংশ নেয়। কিন্তু উদ্দীপকে শুধু উপন্যাসের মজিদের মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ ও ধর্মকে কেন্দ্র করে নিজের অলৌকিকতার গল্পের দিকটি বর্ণিত হয়েছে। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকের গ্রামজীবন যেন 'লালসালু' উপন্যাসের গ্রামজীবনের খণ্ডিতরূপ”- মন্তব্যটি যথার্থ।
HSCBangla 1st Paperউপন্যাস : লালসালুDhaka
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — উত্তর ও ব্যাখ্যা লকড

1.মজিদের মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশটা কেমন ছিল?

  • অবধারিত
  • নাটকীয়
  • কাব্যিক
  • স্বাভাবিক

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.' মাজারটি তার শক্তির মূল' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

  • বিশ্বাস
  • আনুগত্য
  • ভীতি
  • অনুরাগ

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.উদ্দীপকের কামরুলের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায়?

  • তাহের
  • খালেক
  • আক্কাস
  • ধলা মিয়া

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

  • ১৯২০
  • ১৯২২
  • ১৮২০
  • ১৯২৬

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

  • চট্টগ্রাম
  • যশোর
  • রাজশাহী
  • খুলনা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর পৈতৃক নিবাস কোন জেলায়?

  • ফেণী
  • নোয়াখালী
  • কুমিল্লা
  • চট্টগ্রাম

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.কোন বিষয়ে পড়ার জন্য সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন?

  • বাংলা সাহিত্য
  • বায়োলজি
  • অর্থনীতি
  • ইতিহাস

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কর্মজীবন শুরু হয় যে ইংরেজি দৈনিকে, সেটি কোথা থেকে প্রকাশিত হতো?

  • ঢাকা
  • চট্টগ্রাম
  • প্যারিস
  • কলকাতা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ঢাকা বেতারে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন কত সালে?

  • ১৯৪০ সালে
  • ১৯৪৫ সালে
  • ১৯৪৬ সালে
  • ১৯৪৭ সালে

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সর্বশেষ কর্মস্থল কোনটি? [রা. বো. '১৯]

  • করাচি
  • লন্ডন
  • জার্মানি
  • প্যারিস

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

  • ১৯৬৯
  • ১৯৭০
  • ১৯৭১
  • ১৯৭২

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'নয়নচারা' গল্পগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?

  • ১৯৪৮ সালে
  • ১৯৪৫ সালে
  • ১৯৫২ সালে
  • ১৯৬১ সালে

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

মজিদের মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশটা কেমন ছিল?' মাজারটি তার শক্তির মূল' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?উদ্দীপকের কামরুলের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায়?সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর পৈতৃক নিবাস কোন জেলায়?কোন বিষয়ে পড়ার জন্য সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন?সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কর্মজীবন শুরু হয় যে ইংরেজি দৈনিকে, সেটি কোথা থেকে প্রকাশিত হতোসৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ঢাকা বেতারে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন কত সালে?সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সর্বশেষ কর্মস্থল কোনটি? [রা. বো. '১৯]সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'নয়নচারা' গল্পগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।