অল্পবয়সে বিয়ের কারণে স্বামীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হওয়ার দিক দিয়ে উদ্দীপকের শাহানা ও উপন্যাসের জমিলার ভাগ্য একই সূত্রে গাঁথা।
'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা চপলা-চঞ্চলা এক কিশোরী। অল্পবয়সেই জমিলার বিয়ে হয় তার চেয়ে অনেক বেশি বয়সি মজিদের সাথে। মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে ভাগ্যের পরিবর্তনের আশায় এসে ধর্মকেন্দ্রিক ব্যাবসা শুরু করে। মজিদ একটি অজ্ঞাত কবরকে মাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে সকলের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু অল্পবয়সি জমিলা মজিদের এই প্রভাবকে গুরুত্ব দেয় না। তাই সে জমিলাকে বশে আনার জন্য শাস্তি দেয় এবং নানারকম ভয় দেখায়।
উদ্দীপকের শাহানা বারো বছরের এক দুরন্ত কিশোরী। চঞ্চল, উচ্ছল ও স্বাধীনচেতা শাহানাকে তার পিতা অভাবের কারণে পাশের গ্রামের মধ্যবয়সি রহম আলীর সাথে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়। কিন্তু শাহানা এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বিয়ে করা ছাড়া তার আর কোনো উপায় ছিল না। স্বামী রহম আলীর রূঢ় আচরণে শাহানার স্বপ্নগুলো সব চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।
আলোচ্য উপন্যাসের জমিলা ও উদ্দীপকের শাহানা দুজনই গ্রামের হাসি- খুশি, চঞ্চল ও স্বাধীনতাপ্রিয় কিশোরী। তারা কৈশোর পার হওয়ার আগেই মধ্যবয়সি ব্যক্তির সাথে বিয়ে হয়ে সংসারের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। উপন্যাসের জমিলা তার চঞ্চল স্বভাবের কারণে মজিদের দ্বারা নির্যাতিত হয়। মজিদ তাকে বশে আনার জন্য নানারকম ভয়-ভীতিও দেখায়। আবার, উদ্দীপকের শাহানার স্বপ্নগুলো রহম আলীর আচরণের রূঢ়তায় ধূলিসাৎ হয়ে যায়। অল্পবয়সে বিয়ের কারণে স্বামীর দ্বারা মানসিকভাবে নির্যাতিত হওয়ার দিক দিয়ে উদ্দীপকের শাহানা ও উপন্যাসের জমিলার ভাগ্য একই রকম। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।