ফসলের সমৃদ্ধি, জীবনযাপন পদ্ধতি ও প্রচলিত বিশ্বাস ধারণের দিক থেকে "উদ্দীপকের গ্রামজীবন যেন 'লালসালু' উপন্যাসের গ্রামজীবনের খণ্ডিতরূপ”- মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত মহব্বতনগর গ্রাম শস্যে ও সম্পদে সমৃদ্ধ। তারা সবাই ফসলের মাঠে হাসি-আনন্দে মেতে থাকে। তবে এখানকার লোকজন ধর্মভীরু ও কুসংস্কারে বিশ্বাসী। তাই শস্যহীন গ্রাম থেকে মজিদ এ গ্রামে এসে পিরের অলৌকিক কাহিনি শোনালে তারা তা বিশ্বাস করে। মহব্বতনগর গ্রামে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় এসে মজিদ মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজের কর্তৃত্ব বিস্তার করে। এই গ্রামে এসে মজিদ বিয়ে করে সংসার শুরু করে। গ্রামের মাতব্বরও তার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিচার কাজ পরিচালনা করে।
উদ্দীপকের কাজীপুর গ্রামকেও প্রকৃতি শস্য ও সম্পদে সমৃদ্ধ করে রেখেছে। এখানকার সবাই ফসলের মাঠে ও ঘরের কাজে হাসি-আনন্দে মেতে থাকে। সম্পদের প্রাচুর্য থাকলেও তারা কুসংস্কারে বিশ্বাসী। তাই, দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে কাজীপুর গ্রামে এসে মতলব মিয়া মাতব্বরের বাড়িতে নিজেকে পির দাবি করে এবং বিভিন্ন অলৌকিক কর্মকাণ্ডের কথা বলে।
আলোচ্য উপন্যাসের মজিদ ও উদ্দীপকের মতলব মিয়া দুজনেই চোখে- মুখে শঙ্কা ও স্বপ্ন নিয়ে নিজ গ্রাম ছেড়ে অন্য গ্রামে এসে আশ্রয় নেয়। তারা নানারকম অলৌকিক কাহিনি বলে গ্রামের মানুষের মনে বিশ্বস্ত হয়ে থাকতে চায়। কিন্তু উপন্যাসের মজিদ যেমন তার চাতুর্যের দ্বারা গ্রামবাসীর আস্থাভাজন হয়ে ওঠে, উদ্দীপকে সে বিষয়ের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না। মজিদ ঘর-বাড়ি, জমি-জমা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করে। মহব্বতনগর গ্রামে এসে সে দুই বিয়ে করে সংসারীও হয়। এমনকি, মাতব্বরের সাথে সালিশের বিচার কাজেও অংশ নেয়। কিন্তু উদ্দীপকে শুধু উপন্যাসের মজিদের মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ ও ধর্মকে কেন্দ্র করে নিজের অলৌকিকতার গল্পের দিকটি বর্ণিত হয়েছে। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকের গ্রামজীবন যেন 'লালসালু' উপন্যাসের গ্রামজীবনের খণ্ডিতরূপ”- মন্তব্যটি যথার্থ।