প্রতারণা ও স্বার্থান্বেষী মনোভাবের সূত্রে উদ্দীপকের কদম আলি ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ এক শঠ, প্রতারক ও ধর্মান্ধ চরিত্র। মহব্বতনগর গ্রামে আগন্তুক হিসেবে প্রবেশ করে কৌশলে সে প্রভাব বিস্তার করে। এই প্রতিষ্ঠার পেছনে তার পুঁজি ছিল গ্রামীণ মানুষের ধর্মবোধ ও অন্ধবিশ্বাস। মানুষকে ঠকিয়ে ধর্মকে ব্যবহার করে স্বার্থোদ্ধার করে সে। আলোচ্য উদ্দীপকের কদম আলিও তেমনি একজন
স্বার্থান্বেষী চরিত্র।
উদ্দীপকের কদম আলি একজন স্বার্থান্বেষী ও সুযোগসন্ধানী চরিত্র। নিজের আখের গোছাতে সে এলাকার অশিক্ষিত মানুষদের ব্যবহার করে। অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে তাদের অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করে সে। আলোচ্য উপন্যাসের মজিদও তেমনি এক ধর্মান্ধ ও স্বার্থপর চরিত্র। কদম আলির কাছে যেমন এলাকাবাসী প্রতারিত হয়, একইভাবে মজিদের কাছে প্রতারিত হয় উপন্যাসের মহব্বতনগরের মানুষও।
উদ্দীপক ও আলোচ্য উপন্যাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, উদ্দীপকের কদম আলি ও উপন্যাসের মজিদ উভয়েই স্বার্থপর ও কূটচরিত্রের অধিকারী। কর্মকান্ডের উপায় ভিন্ন হলেও তাদের উদ্দেশ্য একই ছিল। মানুষকে প্রতারণা করে নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিল তারা। গ্রামের মানুষকে ঠকিয়ে কদম আলি ও মজিদ উভয়েই নিজেদেরকে অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের কদম আলি ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।