'লালসালু' উপন্যাসে ভণ্ডপীর মজিদ চরিত্রের চাতুর্য ও কপটতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
উপন্যাসের মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে আগন্তুক হিসেবে প্রবেশ করলেও নিজের চতুরতায় সে মাতব্বর খালেক ব্যাপারীর আস্থাভাজন হয়ে ওঠে। মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের বিচার-সালিশের সিদ্ধান্ত খালেক ব্যাপারীর মুখ থেকে আসলেও সেই সিদ্ধান্ত মূলত মজিদের কথাতেই নেওয়া হয়। মজিদ সেই আস্থাকে কাজে লাগিয়ে ক্রমশ খালেক ব্যাপারীর জীবনকে বিপন্ন করে তোলে। ব্যাপারীর নিঃসন্তান স্ত্রী আমেনার পেটে বেড়ি পড়ার কথা বলে। মজিদের ভন্ডামির কিছু বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকের হেকমত কবিরাজের চরিত্রে প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকে নিঃসন্তান দম্পতি মতিন ও খায়রুনের কথা বলা হয়েছে। তারা সন্তান লাভের আশায় হেকমত কবিরাজের শরণাপন্ন হয়। কবিরাজ খায়রুনকে অনেকক্ষণ ধরে নিরীক্ষা করার পর পেটে বেড়ি পড়েছে বলে অভিমত দেয়। তার মতে, এই বেড়ি পড়ার কারণেই খায়রুন মা হতে পারছে না। উদ্দীপকের এই ঘটনার মাধ্যমে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের ভন্ডামির একটি দিক প্রকাশ পেয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদের ধর্মব্যবসাকে কেন্দ্র করে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কথা বলা হয়েছে। সে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে পুরাতন একটি কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার বলে দাবি করে। কয়েকদিনের মধ্যেই সে গ্রামের মাতব্বর খালেক ব্যাপারীর বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে। সমগ্র গ্রামবাসীর মধ্যে মজিদ নিজের প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে আধিপত্য কায়েম করতে চায়। এমনকি, দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে মজিদ তাকে নানারকম শাস্তি দেয়। কিন্তু উপন্যাসের এ সমস্ত বিষয় উদ্দীপকের মাঝে দেখা যায় না। উদ্দীপকে নিঃসন্তান দম্পতির সন্তান লাভের আকাঙ্ক্ষা ও কবিরাজের শরণাপন্ন হবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হেকমত কবিরাজ সন্তান না হওয়ার কারণ হিসেবে পেটে সাত প্যাঁচ, চোদ্দো প্যাঁচের বেড়ি পড়ার কথা বলেছেন, যা আলোচ্য উপন্যাসের মজিদেরও বক্তব্য। অতএব বলতে পারি, "উদ্দীপকের হেকমত কবিরাজ 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের আংশিক প্রতিফলনমাত্র"- মন্তব্যটি যথার্থ।