ধর্ম কখনো কখনো একশ্রেণির ব্যক্তির ব্যবসার উপজীব্য হয়ে উঠেছে'- উদ্দীপকের এই মন্তব্য এবং 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত বিষয়ে সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের কাহিনি ও পরিণতির চেয়ে উপন্যাসের কাহিনি ও পরিণতি অধিকতর বৈচিত্র্যময়।
'লালসালু' উপন্যাসের বর্ণিত হয়েছে গ্রামীণ সমাজজীবনের নানা বাস্তবতা। অশিক্ষিত গ্রামীণ সমাজের নানা অসহায়ত্ব, গ্রামীণ নারীর বিপন্ন জীবন, প্রতিপত্তির কাছে মনুষ্যত্বের পরাজয়, ধর্মকে নিয়ে ব্যবসা- এসবই গ্রামীণ সমাজবাস্তবতার নানা প্রেক্ষাপট। আলোচ্য উপন্যাসে এসবকে কেন্দ্র করে কাহিনি ও কাহিনির পরিণতি লাভ করেছে।
অপরদিকে উদ্দীপক আলোচ্য উপন্যাসের সমগ্র প্রেক্ষাপটকে উপস্থাপন করে না। উপন্যাসের আংশিক উপস্থাপন করে উদ্দীপকটি। উদ্দীপকে মন্তব্য করা হয়েছে, ধর্ম কখনো কখনো একশ্রেণির ব্যক্তির ব্যবসার উপজীব্য হয়ে উঠেছে। উদ্দীপকটি তাই আলোচ্য উপন্যাসের মজিদের অসাধু ভণ্ড আচরণকে স্মরণ করায়। এর সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য আছে। কিন্তু 'লালসালু' উপন্যাস যেন আরও বেশি কিছু।
উদ্দীপক ও আলোচ্য উপন্যাস বিশ্লেষণ সাপেক্ষে বলা যায়, ধর্ম কখনো কখনো একশ্রেণির ব্যক্তির ব্যবসার উপজীব্য হয়ে উঠেছে। উদ্দীপকে অসাধু ব্যক্তি আর আলোচ্য উপন্যাসে মজিদ ধর্মকে পুঁজি করে ব্যবসা করে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অতএব উদ্দীপকের এই মন্তব্যটি সঠিক। কিন্তু 'লালসালু' উপন্যাসে আরো বৈচিত্র্যময় কাহিনি ও পরিণতি দেখতে পাই আমরা। দেখতে পাই খালেক ব্যাপারীর প্রতিপত্তির জোর, জমিলার তারুণ্যের জোর, রহিমার স্থির অবিচলতা, মজিদের ভণ্ডামিসহ আরো নানা দৃশ্য। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকের কাহিনি ও পরিণতির চেয়ে উপন্যাসের কাহিনি ও পরিণতি অধিকতর বৈচিত্র্যময়।