"উদ্দীপকে 'লালসালু' উপন্যাসের আংশিক ছায়াপাত ঘটেছে"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসের কাহিনি গ্রামীণ সমাজজীবনের বাস্তবতাকে ঘিরে আবর্তিত। ভন্ড মজিদ সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগে তাদেরকে ধর্মের কঠিন বেড়াজালে আটকে রাখে। তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য সে মানুষকে মাজারের দিকে আকৃষ্ট করতে চায়। মূর্খ মানুষেরাও মজিদের সকল কথা বিশ্বাস করে। আবার, উপন্যাসের আক্কাস, জমিলা, তাহের- কাদেরের বাবা মজিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চাইলে সে তা দৃঢ়তার সাথে দমন করে।
উদ্দীপকে স্বার্থান্বেষী আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে শফিউল্লাহ চরিত্রটি উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে নিজের অর্থ-সম্পদ বৃদ্ধি করেন। নিজের চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুর গেলেও ভক্তদের জন্য পানিপড়ার ব্যবস্থা করেন। ভক্তদের অজ্ঞতা ও অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে তিনি এই ভণ্ডামির ব্যবসা চালিয়ে যান। আলোচ্য উপন্যাসের মজিদও গ্রামের মানুষের অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
'লালসালু' উপন্যাসের কাহিনি অত্যন্ত সুসংহত ও সুবিন্যস্ত। এখানে লেখক গ্রামীণ কুসংস্কারাচ্ছন্ন জীবনব্যবস্থার পাশাপাশি নারী-পুরুষ, তরুণ-বৃদ্ধ সকলের জীবনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, উদ্দীপকে শুধু ধর্মতন্ত্রের কুপ্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচ্য উপন্যাসে পুরুষতন্ত্রের বিস্তার, নারী জীবনের অসহায়ত্ব, সক্রিয় জোতদার সমাজের কাছে দরিদ্র মানুষের পরাজয় আর তারুণ্য এসবকিছুর সংমিশ্রণ ঘটেছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি 'লালসালু' উপন্যাস ও উদ্দীপকের আলোকে সঠিক ও যথার্থ।