স্বার্থপর মানুষের প্রতারণার কারণেই সহজ-সরল মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের জীবনে দুর্দশা নেমে আসে।
'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগরবাসী অশিক্ষিত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। পরিশ্রমী হওয়ার কারণে তারা অবস্থাপন্ন হলেও তাদের মধ্যে রয়েছে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার। এর ফলে তারা মজিদ ও আউয়ালপুরের পীরের মতো মানুষদের দ্বারা বারবার প্রতারিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, খালেক ব্যাপারী মজিদের কথা শুনে তার স্ত্রীর পেটে বেড়ি পড়ার অজুহাতে তাকে তালাক দেয়।
উদ্দীপকের হিজলতলীর মানুষেরা সরল ও ধর্মপ্রাণ। কিন্তু ধর্ম সম্পর্কে তাদের স্বচ্ছ ধারণা নেই। কুসংস্কারাচ্ছন্নতার কারণে তারা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় গাজীপীর ও বদরপীরের কাছে সাহায্য চায়। তাদের এই সরলতা ও অজ্ঞতার সুযোগে ভণ্ড ধার্মিকরা তাদের ঠকায়।
মহব্বতনগর গ্রামের মানুষেরা স্বচ্ছলভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত পরিশ্রম করে। আর এই গ্রামেই মজিদ আসে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়। এখাসে এসে গ্রামের মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে কেন্দ্র করে সে তার প্রভাব বিস্তার করে। গ্রামের মানুষও তাদের সবধরনের সমস্যায় মজিদের শরণাপন্ন হয়। সন্তান না হলে মজিদের কাছে পানিপড়া নিতে আসে কিংবা ধান কাটার সময় প্রকৃতি বিরূপ হলে তারই কাছে ছুটে যায় সমাধানের আশায়। মজিদও এদের সরলতার সুযোগে নিজের অর্থও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করতে থাকে। এছাড়াও, ধান কাটার মৌসুমে গ্রামে গ্রামে পীরদের সফর শুরু হয় ভক্তদের কাছ থেকে অর্থ বা ধান নেওয়ার জন্য। উদ্দীপকের হিজলতলী গ্রামের মানুষেরা পরিশ্রমী ও বেশীর ভাগেরই গোলা ভরা ধান আছে। এরপরও প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগে তারা গাজীপীর, বদরপীরের সাহায্য কামনা করে। এই পীরেরা নিজেদের আখের গোছানোর জন্য কৌশলে এদেরকে ঠকায়, যা 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ ও আউয়ালপুরের পীরের মাঝেও লক্ষ করা যায়। এভাবে, উভয়স্থানে প্রতারক শ্রেণির দ্বারা ঠকে যাওয়াই গ্রামের মানুষের দুঃখের কারণ হিসেবে দেখা দেয়।