'লালসালু' উপন্যাসে কিশোরী জমিলার প্রতি মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমার মাতৃহৃদয়ের আকুলতা প্রকাশ পেয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের প্রথম স্ত্রীর নাম রহিমা। সে নরম স্বভাব ও ভীতু প্রকৃতির মেয়ে। মজিদের প্রতি তার সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভয় রয়েছে। রহিমা নিঃসন্তান হওয়ায় মজিদ সন্তান লাভের আকাঙ্ক্ষায় অল্পবয়সি জমিলাকে বিয়ে করে। সম্পর্কে সতীন হলেও জমিলার সহজ-সরল ও চপল স্বভাব রহিমার নারীহৃদয়ে মাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। রহিমা জমিলাকে সতীন না ভেবে খুব সহজেই সন্তান স্নেহে আপন করে নেয়। নিঃসন্তান রহিমা যেন জমিলার মাঝেই সন্তানের ছায়া দেখতে পায়।
উদ্দীপকের আব্বাস আলী দফাদার তিন স্ত্রী বর্তমান থাকা সত্ত্বেও প্রথম স্ত্রীর অর্ধেক বয়সি একটি মেয়েকে বিয়ে করে আনেন। অল্পবয়সি স্ত্রীকে আব্বাস আলী কোনো পরপুরুষের সাথে কথা বলতে দেন না। বরং তার কথার অবাধ্য হলে তাকে নানাভাবে শাস্তি প্রদান করেন। একবার পাশের বাড়িতে টেলিভিশন দেখার অপরাধে আব্বাস আলী ছোট বউকে শীতের রাতে ঘরের বাইরে বেঁধে রাখেন। এ ঘটনায় বড় বউ মনে খুব কষ্ট পায়। কেননা সে ছোট বউকে সতীন হিসেবে না ভেবে সন্তানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছে।
'লালসালু' উপন্যাসে রহিমা চরিত্রের মাঝে এক অকৃত্রিম মাতৃমূর্তি প্রতিফলিত হয়েছে। এজন্য সে জমিলাকে সতীনের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে নিজের মেয়ে হিসেবে দেখেছে। মজিদ যতবার জমিলাকে শাস্তি দিয়েছে ঠিক ততবার রহিমার মাতৃহৃদয়ে কষ্ট অনুভূত হয়েছে। উপন্যাসের রহিমার এমন মানসিকতা উদ্দীপকের আব্বাস আলীর প্রথম স্ত্রীর মাঝেও লক্ষ করা যায়। সেও ছোট বউয়ের প্রতি আব্বাস আলীর অন্যায়-অত্যাচার ও শাস্তিতে ব্যথিত হয়ে ওঠে। এদিক থেকে 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমা ও উদ্দীপকের আব্বাস আলীর প্রথম স্ত্রী একই মানসিকতার মানুষ। অতএব বলতে পারি, 'রহিমার মাতৃহৃদয় ব্যাকুল হয়ে ওঠে কন্যা সদৃশ সতীনটির জন্য'- 'লালসালু' উপন্যাসের এই মন্তব্যটি উদ্দীপকের আলোকে যথার্থ।