আলোচ্য উপন্যাসের মজিদের সাথে উদ্দীপকের ফকিরদের স্বার্থ রক্ষায় উদ্দেশ্যগত মিল থাকলেও প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার অপকৌশল অবলম্বনের মধ্যে অমিল রয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য নিজ বাসস্থান ছেড়ে কিছুদিন গারো পাহাড়ে বসবাস করে। এরপর, কোনো এক শ্রাবণের ঝিমিয়ে পড়া দুপুরে সে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে। এখানে একটি পুরোনো কবরকে মাজার বানিয়ে সেটিকে পুঁজি করে ব্যবসা শুরু করে সে। অর্থাৎ, ধর্মকে ব্যবসার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করার দিক থেকে মজিদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম প্রকাশ পেয়েছে আলোচ্য উপন্যাসে। আর এই সংগ্রামের পথে যে-ই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাকেই সে কৌশলে পরাজিত করেছে।
উদ্দীপকের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের ভিক্ষুকদের মাঝেও টিকে থাকার সংগ্রাম পরিলক্ষিত হয়। তাই ধান-সুপারির মওসুমে গ্রামে কিছু নতুন ভিক্ষুক আসায় স্থানীয় ভিক্ষুকদের স্বার্থে আঘাত লাগে। তারা লাঠিসোটা নিয়ে নতুন ভিক্ষুকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কারণ তারা চায় না, তাদের আয়ের পথে নতুন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর আগমন ঘটুক। আওয়ালপুরে আসা নতুন পীরসাহেবের ওপর মজিদের আক্রোশের কারণ হিসেবে এরূপ বিষয়ই লক্ষ করা যায়।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ কিংবা উদ্দীপকের স্থানীয় ভিক্ষুক উভয়েই অস্তিত্বের সংকটে পড়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে। সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হিসেবে তারা অন্য পক্ষকে প্রতিহত করাকেই প্রাধান্য দিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, মজিদ বা ভিক্ষুকরা উদ্দেশ্যগত দিক দিয়ে একই মনোভাবের মানুষ। কিন্তু সমস্যা সমাধানে তাদের মধ্যে আচরণগত পার্থক্য লক্ষ করা যায়। কেননা, নতুন পীরকে দমন করতে মজিদ যেমন কৌশলী পন্থা অবলম্বন করেছিল, উদ্দীপকের ভিক্ষুকরা তা পারেনি। মজিদ তার চতুরতার সাহায্যে আওয়ালপুরের পীরকে সবার সামনে ভণ্ড প্রমাণ করতে চেয়েছে। কিন্তু স্থানীয় ভিক্ষুকরা আগ্রাসী মনোভাব দেখিয়ে নতুন ভিক্ষুকদের তাড়াতে চেয়েছে। সুতরাং 'মজিদের সাথে ফকিরদের উদ্দেশ্যগত মিল থাকলেও আচরণগত অমিল রয়েছে'- মন্তব্যটি যথার্থ।