উদ্দীপকের এলাকাবাসীর মতো মহব্বতনগরবাসী সচেতন হলে লালসালু উপন্যাসের কাহিনী ভিন্ন হতে পারত মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে দেখা যায়, গেদু মিয়া তার বাবার লাশকে ব্যবহার করে ধর্মব্যবসা করার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু এলাকাবাসী সেটার সুযোগ দেয়নি। রফি মুন্সি মারা গেলে রাতের আঁধারে গোপনে লাশ তার ছেলেরা শক্ত কাঠের বাক্সে ভরে ঘরের মধ্যে কবর দিয়ে রাখে। যমুনার ভাঙ্গনে ওই এলাকা বিলীন হওয়ার পূর্বে রফি মুন্সীর ছেলে গেদু মিয়া বাবার লাশের বাক্স তুলে ফেলে গ্রামবাসীকে মাজার তৈরি করার পরিকল্পনা দেন। কিন্তু এলাকার লোকজন তার কবরটি দূরবর্তী কোনো গোরস্থানে রেখে আসেন অর্থাৎ এলাকাবাসী সচেতনতার জন্য ধর্মব্যবসা চালু হয়নি।
একইভাবে লালসালু উপন্যাসে দেখা যায়, মসজিদ মোদাচ্ছের পীরের মাজারে কথা বলে উপস্থিত গ্রামবাসীকে বোকা বানায়। গ্রামবাসী যদি মোদাচ্ছের মাজারটিকে অবিশ্বাস করতেন তাহলে মজিদ তার ধর্মব্যবসাকে কাজে লাগানো পারতেন না। এলাকাবাসীর সচেতনতা এবং অসাধারণ এখানে কাজ করেছে। এলাকাবাসী যখন মজিদের প্লানে পা দিয়েছে এ কারণে তাদের অপরাধের মুখ এবং চেহারা লজ্জামচিতে চেহারা দেখে মজিদ রায় পেয়ে গেছেন। যদি তারা লজ্জা বোধ না করতো তাহলে হয়তো ধর্মব্যবসা চালু হতো না।
সুতরাং বলা যায়, এলাকাবাসীর মত মহাব্বতনগরবাসী উপন্যাসের কাহিনী ভিন্ন হতে পারতো।