“উদ্দীপকের গ্রাম্যজীবন যেন 'লালসালু' উপন্যাসের গ্রাম্যজীবনের খণ্ডিত রূপ।” - মন্তব্যটি আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে কোনো এক শ্রাবণের দিনে মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে। সেখানে সে এসে একটি পুরানো কবরকে মোদাচ্ছের পীরের কবর বলে দাবি করে। বীরের কবরকে অরক্ষিত রাখায় গ্রামবাসীকে সে গালাগাল করে এবং 'লালসালু' দিয়ে এই কবরকে আবৃত করে দেয় । ধীরে ধীরে মজিদ এই কবরকে আশ্রয় করে নিজের ধর্মব্যাবসার সাম্রাজ্য গড়ে তোলে ।
উদ্দীপকের শহর থেকে দূরে অবস্থিত শ্যামপুর গ্রামের মানুষ সমৃদ্ধশালী ও সুখী। ধান চাষ করে, গৃহস্থালী কাজে সময় দিয়ে ও প্রচলিত বিশ্বাস অনুসরণ করেই এ অঞ্চলের মানুষের দিন কাটে। গ্রামের মাতব্বর মেহের আলীর বাড়িতে দরবেশের আগমন ঘটে। সেই দরবেশ বিভিন্নভাবে নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী বলে প্রমাণ করতে চায় ।
'লালসালু' উপন্যাসে ধর্মকে আশ্রয় করে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করতে যেয়ে কীভাবে মানুষ সমাজের মারাত্মক ক্ষতি করে তা দেখানো হয়েছে। মজিদের বিষাক্ত শিকর শুধু তার বলয়েই থেমে থাকেনি, মহব্বতনগর গ্রামের নিরীহ মানুষের জীবনকেও ওলটপালট করে দিয়েছে। ধর্মভীরু মানুষের ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞানতা মজিদের ধর্মব্যাবসার পথকে সুগম করেছে। উদ্দীপকে রহমত মিয়া নামের দরবেশের আগমন ও তার ভণ্ডামির খণ্ডচিত্র উপস্থাপিত হয়েছে, তার ভণ্ডামিতে শ্যামপুর গ্রামের মানুষের কী প্রতিক্রিয়া তা জানা যায়নি। সবকিছু বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি আমার কাছে যথার্থ মনে হয়েছে।