নিজের স্বার্থের জন্য পীরসাহেব ও মজিদ দুজনই আধুনিকতার সুফল থেকে গ্রামের মানুষকে বঞ্চিত করেছে ।
মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে মোদাচ্ছের পীর নামক এক ভুয়া পীরের মাজার আবিষ্কার করে এবং মানুষকে ঠকিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে। মজিদ ধর্মকে ব্যবহার করে ধীরে ধীরে গ্রামে প্রভাব বিস্তার করে, মজিদ আক্কাসকে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে বাধা দেয়। ডাক্তারি ব্যবস্থাপত্রের বিরুদ্ধে গিয়ে মানুষকে পানিপড়া, তাবিজ-কবচ, ঝাড়ফুঁক ইত্যাদির মাধ্যমে চিকিৎসা করে থাকেন ।
উদ্দীপকের জুয়েল একজন ডাক্তার। কিন্তু তার বাবা তাবিজ-কবচ ও পানিপড়ায় বিশ্বাসী। কিন্তু জুয়েল তার পিতা এবং গ্রামের আরও কিছু মানুষের মতামত উপেক্ষা করে গ্রামে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করেন । ফলে গ্রামের মানুষজন আধুনিকতার সুফল পেতে থাকে। ফলে আজকাল পীরসাহেবদের কাছে পানিপড়া ও তাবিজ নিতে খুব কম মানুষই আসে । 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ তার গ্রামের মানুষকে পানিপড়া, তাবিজ, ঝাড়ফুঁক ইত্যাদির মাধ্যমে ঠকায় । মানুষ যাতে আধুনিকতার সুফল পেতে না পারে এজন্য আক্কাসকে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে দেয়নি। উদ্দীপকের জুয়েল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করলেও ওই অঞ্চলের পীর এখন মানুষকে তাবিজ- কবচ, পানিপড়া দিয়ে যাচ্ছে ফলে এক শ্রেণির গ্রামের মানুষ আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। অর্থাৎ দেখা যায় নিজ স্বার্থরক্ষায় ধর্মীয় বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে মজিদ এবং উদ্দীপকের পীর গ্রামের মানুষকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছেন ।