“উদ্দীপকের ফাহাদ-নওয়াজের চরিত্র 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ- খালেক ব্যাপারীর চরিত্র একই সুতায় বাঁধা'- কারণ তারা প্রত্যেকেই শোষক ।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ-খালেক ব্যাপারী শোষক শ্রেণির প্রতিনিধি চরিত্র। মজিদ ধর্মের নামে মানুষকে শোষণ করে আর খালেক ব্যাপারী শোষণ করে জমিজোতের মাধ্যমে। সমাজের সাধারণ মানুষের শোষণের জন্য মজিদ ও খালেক ব্যাপারী একে অপরের পরিপুরক। মজিদ খালেক ব্যাপারীকে ব্যবহার করে আর খালেক ব্যাপারী মজিদের ধর্মীয় লেবাস ব্যবহার করে। ফলে সমাজের মানুষ টু-শব্দটি করতে পারে না। সকলে সবই বোঝে কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারে না । মজিদ খালেক ব্যাপারীর সহযোগিতায় মহব্বতনগর গ্রামের সমাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিজীবন পর্যন্ত । শুরু করেছে। মজিদের কোনো ব্যাপারে খালেক ব্যাপারীর অমত নেই। কারণ খালেক ব্যাপারী উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে, মজিদের বাইরে গেলে নিজের ক্ষতি ।
উদ্দীপকের ফাহাদ কবিরাজ ও নওয়াজ মাতবর একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। ফাহাদ গ্রামে কবিরাজি চিকিৎসার নামে ব্যাবসা চালায়। কবিরাজি ব্যাবসার একটি অংশ গ্রামের মাতবর নওয়াজও ভোগ করে। তাই গ্রামে কবিরাজি ব্যাবসা চালু থাকলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে। এই জন্য এমবিবিএস 'লালসালু' উপন্যাসে তৎকালীন সমা | ডাক্তার রাগিব গ্রামে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে উভয়ই একজোট | স্বরূপ উন্মোচন করা হয়েছে। এ হয়ে তার বিরোধিতা করে।
উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের আলোচনা সাপেক্ষে বলা যায় যে, স্বার্থের ব্যাপারে ফাহাদ-নওয়াজ এবং মজিদ ও খালেক ব্যাপারী একে অপরের পরিপূরক। কবিরাজি প্রথা চালু থাকলে মানুষকে ঠকিয়ে যেমন কবিরাজ লাভবান তেমনি গ্রাম্য মাতবরও লাভবান। ধর্মের নামে মজিদ যেমন মহব্বতনগরকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল, তাতে মজিদের পাশাপাশি খালেক ব্যাপারীও লাভ। ব্যক্তিস্বার্থের কারণে তাই কেউ কাউকে প্রতিবাদ না করে সহযোগিতা করে। তাই বলা যায়, স্বার্থের জন্য ফাহাদ-নওয়াজ আর 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ-খালেক ব্যাপারী একই সুতায় বাঁধা।