উদ্দীপকের ভাবার্থ 'লালসালু' উপন্যাসের শাসন ও শোষণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিবরণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
• মানুষের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। কেননা অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে যারা এগিয়ে থাকে : তারাই সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ঘটিয়ে তারা সমাজের কর্তৃত্বের হস্তক্ষেপ করে। ফলে ন্যায়, অন্যায়, পাপবোধ, বিবেকবোধ সবকিছু ছাড়িয়ে তাদের কাছে অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়টিই মুখ্য হয়ে ওঠে।
• উদ্দীপকে পৃথিবী একশ্রেণির মানুষের নিজেদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রামকে তুলে ধরা হয়েছে। যারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় যেকোনো গর্হিত কাজ করতেও পিছপা হয় না । কারণ তারা জানে এই দুনিয়ায় সচ্ছলভাবে টিকে থাকতে চাইলে নিজের সবটুকু দিয়েই চেষ্টা করতে হয়। তাই এর জন্য তারা নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দেয়। নিজের ক্ষমতা, লোভ, প্রভাব ও স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখতেই তারা এগুলো করে থাকে। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রেও শাসন-শোষণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অনুরূপ চিত্রটি দেখতে পাই। মজিদ মহব্বতনগরে নাটকীয়ভাবে প্রবেশ করেই কৌশলে মাজারের ভয় দেখিয়ে গ্রামের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। গ্রামের মাতব্বর খালেক ব্যাপারীকেও নিজের নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এভাবে সে কৌশলে গ্রামে নিজের প্রভাব- প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করেছে।
• 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ সুকৌশলে নিজের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়েছে। এর জন্য সে নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়েছে। কেউ তার বিরোধিতা করলে মজিদ অন্যায়ভাবে, নিষ্ঠুরভাবে তাকে
দমন করেছে। যেমন— তাহের কাদেরের বাপকে সে গ্রাম থেকে বের করে দিয়েছে, আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে করেছে মসজিদ। প্রতিবাদী জমিলাকেও সে নির্মম অত্যাচার করেছে। আবার খালেক ব্যাপারীর প্রিয়তমা স্ত্রীকেও সে তালাকের ব্যবস্থা করে শাস্তি দিয়েছে। এভাবেই মজিদ উপন্যাসে নিজের শাসন-শোষণে প্রতিষ্ঠা করেছে যা উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে ।