সামাজিক ও ধর্মীয় প্রভাব, সম্পদ ইত্যাদি বিবেচনায় আলোচ্য 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রটির দৌরাত্ম উদ্দীপকের বজলু মিয়ার থেকে অপেক্ষকৃত বেশি ।
'লালসালু' উপন্যাসে মহব্বতনগর গ্রামে নাটকীয় ভঙ্গিতে প্রবেশ করেন মজিদ এবং মোদাচ্ছের পীরের মাজারকে দেখিয়ে সে সেখানে মাজারকে কেন্দ্র করে শুরু করে তার ধর্মব্যাবসা। ধর্মভীরু মানুষ মাজারকে ভয় পায়। যার ফলে সে বেশ সম্পদের মালিক হয়ে ওঠে এবং পর্যায়ক্রমে রহিমা ও জমিলা নামক দুটি মেয়েকে বিয়ে করে। মজিদ ধর্মকে ব্যবহার করে ধীরে ধীরে গ্রামে প্রভাব বিস্তার করে, সে আক্কাসকে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে বাধা দেয়। মজিদ গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি খালেক ব্যাপারীর উপর অসন্তুষ্ট হয়ে একটা পর্যায়ে তার স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য করে । উদ্দীপকের আয়েশা বাবার বয়সি বজলু মিয়ার স্ত্রী। বিয়ের পর আয়েশা জোরে হাসতে পারে না, সাজগোজ করতে তার বাধা, প্রতিবেশীর বাড়িতেও যাওয়া নিষেধ। তাই নিজেকে তার খাচায় বন্দি পাখির মতে মনে হয়। তার স্বামী ইমাম হলেও সে মানুষকে ঠকিয়ে তাবিজ, দোয়া, ঔষধ বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে। বিষয়টি আয়েশা গ্রামবাসীর কাছে ফাঁস করে দিলে, সে গ্রামবাসীর কাছে ক্ষমা চাইল ।
উদ্দীপকের বজলু মিয়া উপন্যাসের মজিদের মতোই ধর্মভীরু, অন্য কথায় ধর্মব্যবসায়ী এখানে উভয়ের মিল রয়েছে। বজলু মিয়া এবং মজিদ দুজনই কম বয়সি মেয়েকে বিয়ে করেছেন। তবে মজিদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সে অন্য এলাকা থেকে এসেছে, বেশ ধনসম্পদ অর্জন করেছে, দুটি বিয়ে করেছে। সমাজে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে আছে। গ্রামের মাতব্বররা তার সিদ্ধান্তকেই মেনে নেয়। দুএকটি বিষয়ে মজিদের সাথে বজলু মিয়ার মিল থাকলেও সার্বিক ক্ষেত্রে তাদের মিল পাওয়া যায় না। অর্থাৎ উদ্দীপকের বজলু চরিত্রের চেয়ে মজিদ চরিত্রের দৌরাত্ম্য অপেক্ষাকৃত বেশি ।