উদ্দীপকের কমল চৌধুরী ও 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর চারিত্রিক বৈপরীত্য হলো ব্যক্তিত্ব, মানসিকতা ও নারীর প্রতি মর্যাদা প্রদর্শনে।
মানুষ তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই একজন থেকে আরেকজন পৃথক হয়ে ওঠে। কেউ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সঙ্গে সমান আচরণ করেন, মানবিক মানুষ হয়ে ওঠেন; পক্ষপাতহীন, নারীর প্রতি মর্যাদাশীল দৃঢ় ব্যক্তিত্ব নিয়ে সবার কাছে উপস্থিত হন। কেউ আবার ব্যক্তিত্বহীন, পক্ষপাতদুষ্ট চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হন।
উদ্দীপকের সখিপুর গ্রামের প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তি কমল চৌধুরী মানুষের বিপদে-আপদে সবার আগে এগিয়ে আসেন। গ্রাম্য সালিশে তিনি নির্মোহভাবে ন্যায্য কথা বলেন। তিনি নারীর প্রতি মর্যাদাশীল ও সহানুভূতিশীল। এই কমল চৌধুরীর সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর চারিত্রিক বৈপরীত্য প্রকটভাবে পরিলক্ষিত হয়। খালেক ব্যাপারীও ভূস্বামী ও প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী। কিন্তু সে এখানে শোষকের ভূমিকায় ভন্ড প্রতারক মজিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, বিভিন্ন সালিশে মজিদের অনুগামী হয়ে কথা বলেছে। সে নিরপেক্ষভাবে ন্যায্য কথা বলেনি। নারীর প্রতিও তার দৃষ্টিভঙ্গি সমীহজনক ছিল না। মজিদ যখন তার স্ত্রী আমেনা বিবিকে বিনা দোষে কলঙ্ক দিয়ে তালাক দিতে বলে তখন সে নিজস্ব বুদ্ধি দিয়ে বিচার- বিবেচনা না করে তালাক দিয়েছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দীপকের কমল চৌধুরীর ব্যক্তিত্ব, ন্যায়পরায়ণতা, নারীর প্রতি মর্যাদাশীলতা ইত্যাদি দিক থেকে খালেক ব্যাপারীর চরিত্রে বৈপরীত্য রয়েছে।