উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের আদর্শগত পার্থক্য হলো ধর্মীয় আধিপত্যবাদ, শোষণ ও প্রতারণায়।
আদর্শের কারণে মানুষের সঙ্গে মানুষের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। কেউ' মানবিক পৃথিবী কামনা করে, হিংসা-বিদ্বেষহীন জীবন পছন্দ করে, ধর্মের তফাত করে না। আরার কেউ প্রতারণা, শোষণ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
উদ্দীপকে একসময়ের সাধারণ মাঝি হোসেন মিয়া বিত্তশালী হয়ে ময়নাদ্বীপের মালিক হন। তিনি কেতুপুর গ্রামের জেলেপাড়ার মাঝিদের অসময়ের বন্ধু। তিনি তাঁর স্বপ্নের ময়নাদ্বীপকে একখণ্ড মানবিক পৃথিবী বানাতে চান, যেখানে থাকবে না হিংসা-বিদ্বেষ, ধর্ম-অধর্মের তফাত। এই হোসেন মিয়ার সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের আদর্শগত পার্থক্য বিদ্যমান। মজিদ মহব্বতনগর গ্রামবাসীর কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে শঠতা ও প্রতারণার মাধ্যমে ধর্মব্যবসায় শুরু করে। গুলিত বিশ্বাসের কাঠামো ও প্রথাবদ্ধ জীবনধারাকে সে টিকিয়ে রাখতে চায়, ওই জীবনধারার সে প্রভু হতে চায়, চায় অপ্রতিহত ক্ষমতার অধিকারী হতে। এজন্য সে যেকোনো কাজ করতেই প্রস্তুত, তা যতই' নীতিহীন বা অমানবিক হোক। উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের এখানেই আদর্শগত পার্থক্য লক্ষ করা যায়।