উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের সমাজবাস্তবতা অভিন্ন- মন্তব্যটি যথার্থ।
অধিকাংশ গ্রামীণ সমাজ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। শিক্ষার আলো নেই বলে তারা বিভিন্ন কুসংস্কারে সহজে বিশ্বাস করে। আর একদল মানুষ তাদের এই সরল বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করে।
'লালসালু' উপন্যাসে এমনই এক সমাজচিত্র দেখা যায়। সেখানে দেখা যায়, মহব্বতনগর গ্রাম। আর সেই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত। আর এটারই সুযোগ নেয় মজিদ। সে এক নাম না জানা ব্যক্তির মাজার দেখিয়ে বলে এটা মোদাচ্ছের পিরের মাজার, যা তারা হেলায় ফেলে রেখেছে। এর ফলে তারা ভয় পায়। আর এই ভয়কে 1. কাজে লাগিয়ে মজিদ নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। এটি আসলে শিক্ষার আলোহীন সমাজের নিদারুণ বাস্তবতা, যা কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও ধর্মান্ধতায় পূর্ণ।
উদ্দীপকেও এমনই এক সমাজবাস্তবতা দেখা যায়। সাঁওতালদের কাছে সাধু সুন্দরলাল দেবতাতুল্য। এই সাঁওতালরাও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। 'যার দরুন তারা সুন্দরলালের ভিত্তিহীন কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে যা মূলত 'লালসালু' উপন্যাসের সমাজবাস্তবতার অন্য রূপ। এই বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের সমাজবাস্তবতা অভিন্ন।