"উদ্দীপক' ও 'লালসালু' উপন্যাস আমাদের সমাজবাস্তবতার দুই ভিন্ন মেরু।”- 'লালসালু' উপন্যাস এবং উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের সমাজে দুই ধরনের মানুষ রয়েছে। তাদের মধ্যে এক ধরনের মানুষ ব্যক্তিস্বার্থকে সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এজন্য তারা সামাজিক বিশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে যেকোনো গর্হিত কাজ করতেও পিছপা হয়' না। অন্যদিকে দ্বিতীয় ধরনের ব্যক্তিবর্গ সদাই সৎ জীবনযাপন করেন এবং মনুষ্যত্বকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেন।
'লালসালু' উপন্যাসের মূল বিষয় যুগ যুগ ধরে শেকড় গাড়া কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ভীতির সঙ্গে জীবনাকাঙ্ক্ষার দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব সৃষ্টিকারী মজিদ। তথাকথিত মোদাচ্ছের পিরের মাজারকে কেন্দ্র করে মজিদ ধর্মব্যবসায় করে। নারীদের প্রতি অমর্যাদাকর ও অমানবিক আচরণ করে। উদ্দীপকে তার এই বৈশিষ্ট্যের বিপরীত দিক প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে একজন উদারমনা ইমাম সাহেবের কথা বলা হয়েছে। কালবৈশাখির সময়টাতে মসজিদের পাশে বসবাসকারী কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে গেলে ইমাম সাহেব তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। বিপদগ্রস্ত এই মানুষগুলোকে সাহায্য করার জন্য তিনি মসজিদেই তাদের থাকার ব্যবস্থা করেন। শুধু তাই নয়, তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি সেই রাতে তাদের সঙ্গেই থেকে যান।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ চরিত্রকে কেন্দ্র করে লেখক সমাজে জেঁকে বসা পিরপ্রথার অন্ধকার দিকটিকে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। যেখানে ইসলাম ধর্মের সুফি দর্শনকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির মানুষ পির সেজে মানুষকে ঠকিয়ে সম্পদ ও প্রতিপত্তি গড়ে তোলে। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ তাদেরই প্রতিনিধি। পক্ষান্তরে, উদ্দীপকের ঘটনাবর্তে আমরা একজন সৎ ও উদারচিত্তের ইমাম সাহেবকে দেখতে পাই, যিনি কালবৈশাখির ঝড়ে গৃহহারা কয়েকটি পরিবারের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসে উঠে আসা এই ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজবাস্তবতারই অংশ। সেই বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।