সময়ের আবর্তে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দিক' থেকে আমরা অনেক এগিয়ে গেলেও আমাদের সমাজে কুসংস্কার আগের মতোই আছে।
'লালসালু' উপন্যাসের সমাজ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন, গাছের শিকড়ের মতো এই সমাজে জাল বিস্তার করে আছে কুসংস্কার। পরিত্যক্ত জায়গার পুরোনো কবরের আধ্যাত্মিক শক্তি আছে বলে গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করে। সন্তানহীন নারীরা চিকিৎসা না করিয়ে পীরের কাছ থেকে পানিপড়া আনে। এ গ্রামে নতুন কোনো শিক্ষাকে স্বাগত জানানো হয় না, ফলে কোনো স্কুলও প্রতিষ্ঠিত হয় না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বেলতলী গ্রামের মানুষের মাঝে যুক্তিগত চিন্তা খুবই কম। তারা বিশ্বাস করে কাক ডাকলে দুঃখ আসে। শিয়াল দেখলে অমঙ্গল হয়। তাদের এই কুসংস্কারের সুযোগ নিয়ে ধূর্ত পীর ব্যবসা চালিয়ে যায়।
'লালসালু' উপন্যাসের সমাজে কোনো আধুনিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হয় না। আধুনিক শিক্ষা সমাজে পরিবর্তন আনতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় গোড়ামির জন্য সমাজের মানুষ সেই শিক্ষাকে প্রয়োজনীয় মনে করেনা। নতুন জ্ঞানকে তারা তাদের পুরোনো আচার ব্যবস্থার প্রতিপক্ষ ভেবে নেয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা কুসংস্কারকে মানুষ বিসর্জন দিতে ভয় পায়। উদ্দীপকেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায়, সময়ের বিবর্তন হলেও কুসংস্কার আগের মতোই আছে।