উদ্দীপকের মূলভাব 'লালসালু' উপন্যাসের ঔপন্যাসিকের মানসচিন্তাকে ধারণ করে বলে আমার মনে হয়।
'লালসালু' উপন্যাসে মহব্বতনগর গ্রামে একদিন হঠাৎ উদয় হয় মজিদের। সে নিজেকে মোদাচ্ছের পিরের মাজারের সেবক বলে দাবি করে। ধর্মীয় ও পির সংক্রান্ত বিষয় বলে ভীত ও অজ্ঞ গ্রামবাসী মজিদকে সমীহের সঙ্গে মেনে নেয়। গ্রামে মাজার স্থাপন করে মজিদের আর্থিক উন্নতি ঘটে, সে ধীরে ধীরে গ্রামের একজন প্রভাবশালী মানুষে পরিণত হয়। গ্রামে তার প্রভাব, ক্ষুণ্ণ হতে পারে এমন ছোটো ছোটো বিষয়কে সে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে, গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে না দেওয়া, আমেনা বিবিকে তালাক দেওয়ানো তার উদাহরণ। এভাবে মজিদ ধর্মকে ব্যবহার করে নিজের আধিপত্যবাদ বজায় রাখে।
উদ্দীপকের মাওলানা আবুল কালাম গ্রামবাসীর চাওয়া সত্ত্বেও টাকাপয়সার বিনিময়ে তাদেরকে তাবিজ-কবজ দেন না। তিনি তার স্বল্প আয়ের মুদির দোকান থেকেই জীবিকা নির্বাহ করেন। পানিপড়া তাবিজ- কবজ দেওয়ার বদলে তিনি গ্রামবাসীকে ডাক্তার দেখাতে বলেন। গ্রামবাসীকে শিক্ষা দেন যে ধর্ম কোনো ব্যাবসার বিষয় নয়, ধর্ম মানুষকে প্রতারণা বা নিপীড়ন করার জন্য নয়। 'লালসালু' উপন্যাসে এমন দৃষ্টিভঙ্গি দৃষ্টিগোচর হয় না।
'লালসালু' উপন্যাসে ধর্মভীরু মানুষের ভক্তির সুযোগ নিয়ে পির প্রথার এক চলমান রূপের সন্ধান পাওয়া যায়। যেখানে মানুষের অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাদেরকে দিনের পর দিন ঠকানো হয়। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য কিছু মানুষ ধর্মের আশ্রয় নিয়ে থাকে; তারা তাদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য সামাজিক জীবন ও মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে বিঘ্ন ঘটায়। তবু গ্রামের অন্ধবিশ্বাসী মানুষ তাদের বিশ্বাস করে চলে। ঔপন্যাসিক এই চলমান প্রথার বিরুদ্ধচারণ করতেই এই উপন্যাস রচনা করেন, যেহেতু উদ্দীপকের মূলভাব উপন্যাসে ফুটে ওঠা জীবনাচরণের বিপরীত, তাই বলা যায়, উদ্দীপকের | মূলভাব ঔপন্যাসিকের মানসচিন্তাকে ধারণ করেছে।