"প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের সমাজবাস্তবতাই যেন 'লালসালু' উপন্যাসের প্রতিফলিত হয়েছে।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসে একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন, অন্ধবিশ্বাসী, দরিদ্র সমাজের বাস্তবতা দেখা যায়। যে সমাজে মানুষ ধর্মের প্রতি ভক্তির কারণে অন্ধভাবে পির প্রথা বিশ্বাস করে। এই সমাজে সাধারণ শিক্ষার বিপরীতে ধর্মীয় শিক্ষাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। ফলে সাধারণ শিক্ষার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সেই উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
উদ্দীপকে গফুর মিয়ার সন্তান পিএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে সাফল্যের সঙ্গে পাশ করলেও হাই স্কুলে ভর্তি করার মতো টাকা গফুর মিয়ার নেই। দারিদ্র্যের কারণে গফুর মিয়া গ্রামের মোড়লের কাছে হাত পাতে। গ্রামের মোড়ল তাকে অর্থ সাহায্য না করে ঋণ নিয়ে তার সন্তানকে অটোরিকশা কিনে দেওয়ার পরামর্শ দেয়। দরিদ্র মানুষের কাছে লেখাপড়ার চেয়ে অর্থই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তাকে বোঝায়; গফুর মিয়া তার কথায় সায় দেয় এবং এতে তার সন্তানের পড়ার ইতি ঘটে। 'লালসালু' উপন্যাসের সমাজেও সার্বিকভাবে শিক্ষাকে গুরুত্ব না দেওয়ার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়।
'লালসালু' উপন্যাসের সমাজ ও উদ্দীপকের সমাজ উভয়ক্ষেত্রেই দরিদ্রতা একটি সাধারণ বিষয়। 'লালসালু' উপন্যাসে দরিদ্র মানুষেরা জ্ঞান- বিজ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত, তাই তারা অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারে আক্রান্ত। দরিদ্রতা থেকে উদ্ভুত এই কুসংস্কার তাদেরকে নতুন কোনো শিক্ষা গ্রহণে সংশয়ী করে তোলে। এই সুযোগ নেয় গ্রামে আধিপত্য বজায় রাখতে চাওয়া কিছু লোক, স্কুল প্রতিষ্ঠার বদলে তারা মসজিদ প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব দেয়। একইভাবে দরিদ্রতার শিকার গফুর মিয়া তার সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর সামর্থ্য রাখে না এবং স্থানীয় মোড়ল তার সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর ব্যাপারে তাকে নিরুৎসাহিত করে। উভয়ক্ষেত্রেই শিক্ষাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় না, সবদিক বিবেচনা করে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।