ধর্মব্যবসায়ের দিক দিয়ে উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের প্রাসঙ্গিকতা বিদ্যমান।
'লালসালু' উপন্যাসের বর্ণনায় দেখা যায়, কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদ কুসংস্কার, শঠতা, প্রতারণা ও অন্ধবিশ্বাসের প্রতীক। সে মহব্বতনগর গ্রামের - অশিক্ষিত মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে ব্যবহার করে ধর্মব্যাবসা শুরু করে। তার মূল লক্ষ্য ছিল নিজের স্বার্থসিদ্ধি ও অর্থ লাভ।
উদ্দীপকে আমরা পীরপ্রথার স্বরূপ দেখতে পাই। পোড়াবাড়ি গ্রামে ফসি পাগলের মাজার। মঙ্গললাভের আশায় টাকা-পয়সা, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল মানত করা হয় এই মাজারে। চলমান বাসের চালক, যাত্রাপথের পথিক ভক্তিভরে পর্যাপ্ত দান করে। 'লালসালু' উপন্যাসেও আমরা এমন ধর্মকেন্দ্রিক ব্যাবসা দেখতে পাই। মজিদ একটি পুরোন অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পিরের কবর বলে সেটিকে মাজারে রূপান্তর করে। এরপর থেকে গ্রামের মানুষ নানা সমস্যা নিয়ে মাজারে যায় এবং মজিদের কাছ থেকে তদবির নেয়। তারা টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন জিনিস মাজারে দান করে যায় যার পুরোটাই ভোগ করে মজিদ। যেমনটি করেছে উদ্দীপকের মাজারের খাদেম। এই ভণ্ড ধর্মব্যাবসার দিক দিয়েই উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের প্রাসঙ্গিকতা বিদ্যমান।