সমাজের অন্ত্যজ শ্রেণির অন্ধবিশ্বাস থেকে সৃষ্ট পীর ও মাজার প্রীতির বিষয়টি 'লালসালু' উপন্যাসের মানুষের মাজারকেন্দ্রিক ধর্মীয় বিশ্বাসের দিকটিকে তুলে ধরে।
'লালসালু' উপন্যাসের অন্ত্যজ শ্রেণির গ্রামবাসী অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। এখানকার মানুষ ভাগ্য ও অলৌকিকত্ব গভীরভাবে বিশ্বাস করে। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মজিদ নামক ধর্মব্যবসায়ী নিজের স্বার্থসিদ্ধি করে। এসব কুসংস্করাচ্ছন্ন মানুষ দৈবশক্তির লীলা দেখে নিদারুণ ভয় পেয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখে নয়তো ভক্তিতে আপ্লুত হয়। অন্ধবিশ্বাসের কারণে গ্রামবাসী সহজেই মাজারপ্রেমী হয়ে ওঠে। মাজারকেই তারা তাদের ধ্যান-জ্ঞান মনে করে।
উদ্দীপকের অসহায় বৃদ্ধ সালাম মণ্ডল তার রোগগ্রস্ত ছেলের জন্য মাজারে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি মানত করে। কিন্তু ছেলের শারীরিক কোনো উন্নতি ঘটে না। ছেলে তার দিনকে দিন খারাপের দিকেই যায়। তার শেষ সম্বল টাকা-পয়সা যা ছিল তাও সে মাজারে ছুঁড়ে দিয়ে ছেলের জন্য রোগমুক্তির প্রার্থনা করে।
অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষ কর্তৃক ধর্মের প্রতি অন্ধবিশ্বাসের কারণে পীর ও মাজারের প্রতি তারা আকৃষ্ট। নিজেদের সকল সমস্যা সমাধানে তারা মাজারকেই একমাত্র ভিত্তি বলে মনে করে। আর মাজার পূজার কর্ণধারকে তারা চরম ভয়-ভীতির চোখে দেখে। কেননা, তাদের মন কুসংস্কারাচ্ছন্ন, দুর্বল, সংকীর্ণ ও ভীত। আর তাদের ভয়কে কাজে লাগিয়ে স্বার্থ ও লোভের বশবর্তী হয়ে একশ্রেণির লোক সেই অন্ধবিশ্বাস টিকিয়ে রাখার জন্য নানা ধরনের ভণ্ডামির আশ্রয় নেয়। 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগরবাসীও তেমনি ধর্মীয় কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। তাদের ধর্মবিশ্বাসও মাজারেই সীমাবদ্ধ।