“উদ্দীপকের 'মন্দার' ও 'সুপ্রভার' চেয়ে পাঠ্য উপন্যাসের রহিমা ও জমিলা অধিকতর প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী।”- উক্তিটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসে রহিমা চরিত্রের মাঝে এক অকৃত্রিম মাতৃমূর্তি প্রতিফলিত হয়েছে। এজন্য সে জমিলাকে সতিনের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে নিজের মেয়ে হিসেবে দেখেছে। মজিদ যতবার জমিলাকে শান্তি দিয়েছে, ঠিক ততবার রহিমার মাতৃহৃদয়ে কষ্ট অনুভূত হয়েছে। উদ্দীপকের মন্দার মধ্যে সতিনের প্রতি একধরনের স্নেহপরায়ণতা লক্ষ করা যায়। সতিন হলেও সুপ্রভাকে সে নয়নের মণি করে রাখে। সুপ্রভাও প্রভুত্ব করার চেয়ে তার প্রতি নির্ভর করতেই ভালোবাসে। আদর পাওয়াই তার কাছে বড়ো পাওয়া বলে গণ্য হয়। তাদের দেখে কেউ মনে করতে পারে না যে তারা সতিন ।
উপন্যাসের রহিমার মানসিকতা উদ্দীপকের মন্দার মাঝেও লক্ষ করা যায়। সে-ও তার সতিনের প্রতি সন্তানের মতো স্নেহপরায়ণ হয়ে উঠেছে। এদিক থেকে 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমা ও উদ্দীপকের মন্দা একই মানসিকতার অধিকারী। আবার সুপ্রভা এবং জমিলাও একই রকম চেতনাকে ধারণ করেছে। কিন্তু আলোচ্য উপন্যাসের রহিমা ও জমিলা যেভাবে একে অন্যের প্রতি আত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে তা বিরল। যে রহিমা স্বামীর প্রতি 'লালসালু' উপন আস্থাশীল, সে-ই জমিলার প্রতি অত্যাচারের প্রতিবাদ করে ওঠে। তাদের আচরণও অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে প্রাত্যহিক কাজকর্মে। সুতরাং উভয়ের মাঝে স্নেহ-ভালোবাসা প্রকাশ পেলেও উপন্যাসের রহিমা ও জমিলা জন্য মুজিদ ও অনেক বেশি প্রাণবন্ত' ও শক্তিশালী হয়ে ধরা দিয়েছে।