প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের মাতব্বর ও তার লোকজন এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ উভয়ই অভিন্ন চেতনার অনুসারী। 'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায় মজিদ শঠ ও প্রতারক একটি চরিত্র।
মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে ব্যবহার করে একটি পরিত্যক্ত কবরকে মাজার বলে ঘোষণার মাধ্যমে সে ধর্মব্যাবসা শুরু করে। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল নিজের স্বার্থসিদ্ধি। আর এ কারণে যে-ই তার পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, তার প্রতিই সে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছে ।
উদ্দীপকের মাতব্বর ও তার লোকজন উপন্যাসের মজিদের মতোই কূটবুদ্ধির অধিকারী। তাই সুযোগমতো ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার প্রতি আনুগত্যহীনদের প্রতিহত করে। সামান্য দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্ৰ করে একটি পরিবারকে একঘরে করেছে সে। নির্মমতা দেখিয়ে অবাধ্য লোকদের শাস্তি দেওয়ার এমন নজির আলোচ্য উপন্যাসের মজিদের মধ্যেও লক্ষ করা যায়।
আলোচ্য উপন্যাস ও উদ্দীপকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে বদ্ধপরিকর টেকনাফ অঞ্চলের মাতব্বর। অন্যদিকে উপন্যাসের মজিদ তার প্রভাব বিস্তার করেছে মহব্বতনগর গ্রামে । তবে দুজনের ঘটনার ক্ষেত্র আলাদা। তাই পালটে যায় প্রেক্ষাপটও। কিন্তু তারা দুজনেই নির্মম ও অত্যাচারী। প্রভাব বিস্তার করে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে নেয়। তাদের লক্ষ্য ছিল, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি ক্ষমতা বিস্তার করা। সেটা তারা সফলভাবেই করে। তাই, উদ্দীপক ও আলোচ্য উপন্যাসের বিশ্লেষণে বলা যায়, “উদ্দীপকের মাতব্বর ও তার লোকজন এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ অভিন্ন চেতনার অধিকারী।”— মন্তব্যটি যথার্থ ।