সন্তানের আশায় দ্বিতীয় বিয়ে করে ভোগান্তির শিকার হওয়ায় উদ্দীপকের জব্বার মৃধা মজিদ চরিত্রের আংশিক রূপ ধারণ করেছে।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ কুসংস্কার, শঠতা, প্রতারণা এবং অন্ধ বিশ্বাসের প্রতীকী চরিত্র। সে গ্রামের সরল মানুষদের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভ করে। তারপর বিয়ে করে সংসার শুরু করলেও মজিদ ছিল নিঃসন্তান। পরবর্তী সময়ে মেয়ের বয়সি জমিলাকে বিয়ে করে নিয়ে এলে মজিদ আরও হতাশ হয়ে পড়ে। কারণ, প্রথম স্ত্রী মজিদের অনুগত হলেও জমিলা ছিল তার বিপরীত।
জব্বার মৃধা নিঃসন্তান। সন্তান না হওয়ার যন্ত্রণায় জব্বার মৃধা অনেকটা দিশেহারা হয়েই প্রথম স্ত্রী মেরিনার অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কিন্তু তার দ্বিতীয় স্ত্রী সুচরিতা বাবার বয়সি জব্বার মৃধাকে মেনে নেয় না এবং তাকে সম্মান করে না। এতে আব্দুল জব্বার মৃধা কষ্ট পায় ।
মজিদ শস্যহীন জনবহুল এক অঞ্চল থেকে ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য মহব্বতনগর গ্রামে আসে। এখানে এসে সে একটি অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পিরের মাজার বলে প্রতিষ্ঠিত করে। এই মাজারকে কেন্দ্র করে সে মহব্বতনগরে নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করে। গ্রামের সহজ-সরল ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে সে তার ধর্ম ব্যাবসা চালিয়ে যায়। সন্তান লাভের আশায় ঘরে স্ত্রী থাকার পরও মজিদ অল্প বয়সি জমিলাকে বিয়ে করে। কিন্তু গ্রামের সবাই তাকে ভক্তি ও শ্রদ্ধা করলেও জমিলা মজিদের অবাধ্য হয় এবং মজিদ তাকে অমানবিক শাস্তি হয়। মজিদের এই দ্বিতীয় বিয়ে, স্ত্রীর অবাধ্য ও অসম্মানজনক আচরণ ইত্যাদি বিষয়গুলো উদ্দীপকের জব্বার মৃধার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে উপন্যাসে মজিদের যে প্রভাব, প্রতাপ ও প্রতিপত্তি তা আব্দুল জব্বার মৃধার সাথে সংগতিপূর্ণ নয় । তাই বলা যায়, “উদ্দীপকের জব্বার মৃধা 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের আংশিক রূপধারণ করেছে।”— মন্তব্যটি যথার্থ ।