উদ্দীপকে ও 'লালসালু' উপন্যসে পশ্চাদপদ সমাজের চিত্র ফুটে উঠেছে যা কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত ।
'লালসালু' উপন্যাসের অন্তজ শ্রেণির গ্রামবাসী অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। এখানকার মানুষ ভাগ্য ও অলৌকিকত্ব গভীরভাবে বিশ্বাস করে। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মজিদ নামক ধর্ম ব্যবসায়ী নিজের স্বার্থসিদ্ধ করে। এসব কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ দৈবশক্তির লীলা দেখে নিদারুণ ভয় পেয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখেন নয়তো ভক্তিতে আপ্লুত হয়। অন্ধ বিশ্বাসের কারণে গ্রামবাসী সহজেই মাজার প্রেমী হয়ে ওঠে মাজারকেই তারা তাদের ধ্যান-জ্ঞান মনে করে।
উদ্দীপকে আমরা যে সমাজব্যবস্থা দেখতে পাই, সেখানকার মানুষ অন্ধবিশ্বাস আর কুসংস্কারকে আকড়ে বেঁধে থাকে। তারা চিকিৎসার জন্য তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুঁক ও পানিপড়ার ওপর নির্ভর করে। তাদের জীবনব্যবস্থা অন্ধ ধর্মবিশ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ।
মহব্বতনগরের লোকজন অন্ধবিশ্বাস আর কুসংস্কারের মধ্য দিয়েই দিন অতিবাহিত করে। গ্রামের সাধারণ জনগণ ধর্মভীরু হওয়ায় ধর্ম ভীরুতার সুযোগ নিয়ে ভণ্ডরা ধর্ম ব্যাবসা শুরু করে। নানাভাবে ভয়-ভীতি জাগিয়ে এই প্রতারকরা নিজের স্বার্থ হাসিল করে। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের মধ্যে ভণ্ডামি ও প্রতারণার পরিচয় মেলে। মহব্বতনগরের মানুষের সরলতাকে কাজে লাগিয়ে সে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে। শুধু তাই না, শিক্ষিত সচেতন মানুষ যাতে তার ব্যবসায় বাধা না সৃষ্টি করতে পারে, সেজন্য ব্যবস্থাও গ্রহণ করে। উদ্দীপকেও কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের চিত্র ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাস উভয়ই অন্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন জনজীবনের আলেখ্য” মন্তব্যটি যৌক্তিক।