উভয়েই ধর্ম ব্যবসাকে আশ্রয় করে আত্মপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করায় উদ্দীপকের হানিফ এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একই বৃত্তে আবদ্ধ।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য মাজার ব্যবসা শুরু করেছে। কোনো ধর্মীয় চেতনা বা কল্যাণকর মানসিকতা থেকে মজিদ মাজার প্রতিষ্ঠা করেনি। দারিদ্র্যপীড়িত জীবন এবং গারো পাহাড়ের কষ্টের অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তি পেতে, জীবিকা অর্জনের তাগিদে সে মহব্বতনগরে মোদাচ্ছের পিরের মাজার খুলে বসে । শুরু হয় তার রমরমা ধর্ম ব্যবসা ।
উদ্দীপকের হানিফও সাধারণ ধর্মভীরু মানুষদের ঠকিয়ে অর্থলাভের আশায় নিজেকে পির হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পুরোপুরি আত্মপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকে সে রাতারাতি পির হয়েছে। তার এ কর্মকাণ্ডে ভণ্ডামি, শঠতা এবং সুযোগসন্ধানী মনোভাবের পরিচয় ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় না ।
উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসে যথাক্রমে হানিফ ও মজিদ আত্মপ্রতিষ্ঠায় সংগ্রামী দুই ব্যক্তি । যদিও তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার পথটি সম্পূর্ণ অনৈতিক দুজনই আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য সাধারণ মানুষের ধর্মীয় দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ধর্মকে ব্যবসা হিসেবে বেছে নিয়েছে। এক্ষেত্রে তারা দুজনই ধর্মের প্রতি মানুষের ভীতিকে কাজে লাগিয়েছে। সেদিক বিবেচনায় আমরা বলতে পারি, “উদ্দীপকের হানিফ এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের আত্মপ্রতিষ্ঠা একই বৃত্তে আবদ্ধ”— প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ।