'লালসালু' উপন্যাসের ধর্মকে ব্যবহার করে প্রতারণার দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকের ভাবগত ঐক্য পরিলক্ষিত হয়।
আলোচ্য উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মজিদ আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য ধর্মকে অসৎভাবে ব্যবহার করেছে। সে একটি পুরোনো কবরকে মাজার বানিয়ে সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করেছে। ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে ঠকানো গর্হিত কাজ জেনেও সে তা করতে দ্বিধা করেনি। কেননা, সে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে এবং সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিতে এর চেয়ে ভালো উপায় আর পায়নি। শুধু তা-ই নয়, যাকে সে তার পথের কাঁটা মনে করেছে, তাকেই ধর্মকে ব্যবহার করে নির্মমভাবে প্রতিহত করেছে। উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি ধর্মের নামে যারা তণ্ডামি করে তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তিনি বলেছেন, পৃথিবীর কোনো কিছুই আল্লাহর জানার বাইরে থাকে না। কেননা, আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং সকল কিছুর মালিক। যে আল্লাহকে ধোঁকা দেবে, তিনি অবশ্যই কেয়ামতের দিনে তার বিচার করবেন।
আলোচ্য উপন্যাসের লেখক ও উদ্দীপকের কবি দুজনেই ধর্মব্যবসায়ীর মুখোশ উন্মোচন করতে চেয়েছেন। উপন্যাসের মজিদ একজন অসৎ ব্যক্তি, যে কিনা ধর্মভীরু মানুষের ধর্মের প্রতি অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে তাদের শোষণ করার মাধ্যমে নিজের কার্যসিদ্ধি করেছে। গ্রামের মানুষের অন্ধ ধর্মীয় দুর্বলতা মজিদকে মহব্বতনগর গ্রামে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় ঐ গ্রামের মানুষের সঠিক ধর্মীয় শিক্ষার অভাব রয়েছে। উদ্দীপকে ধর্মব্যবসায়ী অসৎ ব্যক্তিদের ধর্মকে আশ্রয় করে তাদের কার্যসিদ্ধির বিষয়টি ফুটে উঠেছে। ধর্মের মূল উদ্দেশ্য মানবকল্যাণ, কিন্তু কিছু অসৎ ব্যক্তি এই ধর্মকে ব্যবহার করে আপন স্বার্থ উদ্ধার করে। 'লালসালু' উপন্যাসের ধর্মকে এভাবে অসৎ কাজে ব্যবহার করার দিকটি উদ্দীপকের বক্তব্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।