“উদ্দীপকের টুনি ও 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা সামাজিক কুসংস্কারের
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, মহব্বত নগরের নিজের প্রভাব বিস্তার করা মজিদ সন্তান কামনায় অল্প বয়সি মেয়ে জমিলাকে বিয়ে করে।বিয়ের দিন জমিলা মজিদকে তার শ্বশুর ভেবেছিল।কিন্তু প্রতিপত্তির কাছে তাকে পরাজয় বরণ করতে হয়। সামাজিক রীতির বিয়ের কিন্তু কারণেই তাকে বাবার বয়সি বৃদ্ধের সাথে সংসার করতে হয়।আলোচ্য উদ্দীপকে দেখ যায়, হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র এত টুনিকে। যে কি না স্বামী সংসার সম্পর্কে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ একজন চঞ্চল | কিশোরী। বিয়ের বয়স না হলেও তাকে বিয়ে দেওয়া হয় ষাট বছর বয়সি মকবুল বুড়োর সঙ্গে। ফলে তাকে ত্যাগ করতে হয় সাংসারিক সুখকে।। আলোচ্য উপন্যাসের জমিলার জীবনেও এমন ঘটনা লক্ষ করা যায়।
আলোচ্য উপন্যাস ও উদ্দীপকের ঘটনা বিশ্লেষণ করে এ কথা নির্দ্বিধায় | সামাজিক কুসংস্কারের কারণেই তাদের পরিবার বৃদ্ধ লোকের হাতে বলা যায়, জমিলা ও টুনি উভয়ই সামাজিক কুসংস্কারের শিকার। মেয়েকে তুলে দিয়েছেন। কেননা তখনকার দিনে অভাবের কারণে মনে করা হতো অর্থের কাছে বয়স কোনো ব্যাপার নয়। শিক্ষার অভাবে মেয়েদের সামাজিকভাবে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হতো না। বরং অর্থ- সম্পদের অধিকারী বয়স্ক ব্যক্তির কাছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়াই শ্রেষ মনে করা হতো। আর এ কারণেই উদ্দীপকের টুনি ও 'লালসাল উপন্যাসের জমিলাকে বৃদ্ধ ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং, এ বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ।