উদ্দীপক এবং 'লালসালু' উপন্যাসের উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিহিংসার | প্রতিফলন ঘটায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসে তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় জেঁকে বসা ধর্মব্যবসায়ীদের স্বরূপ উন্মোচন করা হয়েছে। এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদ। মজিদের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য প্রতিহিংসা। মজিদ অতিমাত্রায় প্রতিহিংসাপরায়ণ। মজিদের প্রতি যাদের আস্থা নেই, যারা মজিদের শাসনের বিরোধিতা করতে চায় মজিদ তাদের শক্তহাতে দমন করেন। বিশেষ করে আওয়ালপুরে নতুন পির সাহেব এলে প্রতিহিংসাপরায়ণতার রূপ বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে মজিদের। আওয়ালপুরের পির সাহেবের সুনাম-মুহূর্তে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দলে দলে মানুষ নতুন পির সাহেবের কাছে যেতে থাকে । তাই দেখে মজিদ প্রচণ্ডভাবে ঈর্ষান্বিত হয়।
উদ্দীপকেও মানব চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য প্রতিহিংসাপরায়ণতার দিকটি লক্ষণীয়। মানুষ অন্যের সমৃদ্ধি, উন্নতি ও উৎকর্ষ সাধনে ঈর্ষান্বিত হয়, প্রতিহিংসায় জ্বলতে থাকে। উদ্দীপকের তাকত আলী একজন মাদক ব্যবসায়ী। তার মাদক ব্যাবসা ভালো চলে। কিন্তু নতুন একজন মাদক ব্যবসায়ী আরব আলী ব্যাবসা করতে এলে তাকত আলী প্রতিহিংসায় জ্বলে । প্রতিহিংসারর কারণে তাকত আলী আরব আলীকে রাতের আঁধারে আক্রমণ করে । ফলে আরব আলী ব্যাবসা গুটিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয় ।
উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে বলা যায় যে, মানুষ স্বভাবত প্রতিহিংসাপরায়ণ। মজিদের চরিত্রে যেমন প্রতিহিংসা রয়েছে তেমনি উদ্দীপকের তাকত আলীর চরিত্রেও প্রতিহিংসা বিদ্যমান। মজিদ তার প্রতিপক্ষের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়। তাই আওয়ালপুরের পিরসাহেরে কাছে দলে দলে লোক যেতে দেখে মজিদ প্রতিহিংসায় জ্বলতে থাকে। এই প্রতিহিংসার জন্য তাকত আলী তার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ী আরব আলীকে আক্রমণ করে। তাই বলা যায়, প্রতিহিংসাপরায়ণতা মানব চরিত্রের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য ।