উদ্দীপকের সঙ্গে 'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেলের জীবন ভাবনায় সাদৃশ্য রয়েছে।
মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষা অনেক সময় দুঃখ-কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুখ-ভোগ-বিলাসের স্বপ্নে বিভোর হয়ে মানুষ অতৃপ্তিতে ভোগে। যা পাওয়ার নয় তা-ই প্রত্যাশা করে অহেতু কষ্ট পাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। নিজের যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত।
উদ্দীপকে একটি পরিবারের টানাপড়েন তুলে ধরা হয়েছে। এখানে স্ত্রী তানিয়ার ইচ্ছায় তার স্বামী রাসেল মোটা অঙ্কের লোন নিয়ে দামি আসবাবপত্র কেনে। এতে তাদের সংসারে বিপর্যয় নেমে আসে। কারণ লোনের কিস্তি পরিশোধ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তখন তার স্ত্রী তানিয়ার মনে হয় উচ্চাভিলাষী জীবন-যাপনের স্বপ্ন, -দামি জিনিসপত্রের চেয়ে সাধারণ জীবনযাপনই ভালো ছিল। উদ্দীপকের তানিয়ার জীবনযাপনের এই উপলব্ধি 'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেলের জীবন-ভাবনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ গল্পে মাদাম লোইসেলও প্রথম জীবনে অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিল। স্বামীর স্বল্প আয়ের সংসারে ধনীর মতো বিলাসী জীবন কাটাতে না পারায় সে সব সময় দুঃখে থাকত। নিজেকে সম্ভ্রান্ত ও সম্পদশালী প্রমাণ করার জন্য সে বান্ধবীর কাছ থেকে গহনা চেয়ে নিয়ে সাজগোজ করে শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবনে বল নাচের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যায়। সেখান থেকে ঘরে ফিরে সে দেখে তার গলায় নেকলেস নেই। অনেক খুঁজে তা না পেয়ে, অনুরূপ একটি নেকলেস কিনে বান্ধবীকে ফেরত দেয়। সেই হারের মূল্য পরিশোধ করতে গিয়ে তাদের জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। মাদাম লোইসেল কাজের লোকদের বিদায় করে দিয়ে নিজেই সমস্ত কাজের দায়িত্ব নেয়। মসিয়ে লোইসেরও অফিসের বাইরে অতিরিক্ত কাজ করে। এভাবে দীর্ঘ দশ বছর তাদের কষ্ট করতে হয়। নেকলেস হারিয়ে মাদাম লোইসেলের সেই অনুভূতি ও উপলব্ধি এবং উদ্দীপকের তানিয়ার উপলব্ধি এক সূত্রে গাঁথা।